সন্ধ্যা ৬:১৫,   বুধবার,   ১৬ই জানুয়ারি, ২০১৯ ইং,   ৩রা মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ,   ৯ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী
 

অপারেশন ছাড়াই হৃদরোগ চিকিৎসা

অনলাইন রিপোর্ট:
এনজিওপ্লাস্টি, বাইপাস বা কাঁটাছেড়া ছাড়াও বর্তমানে হৃদরোগের মতো প্রাণঘাতি রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। প্রতিদিন কোনো না কোন মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। করোনারি আর্টারি ব্লক হয়ে মানুষ ছুটে যান ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার রিং বা বাইপাস করে সুস্থ করতে চান। কিন্তু রোগী এর মাধ্যমে কি সুস্থ হচ্ছেন। না, কয়দিন পরই তিনি আবার অসুস্থ হচ্ছেন বা নতুন ব্লক নিয়ে ডাক্তারের কাছে ছুটে যাচ্ছেন। এই রকম শত শত রোগীর বিনা অপারেশনে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন কোয়ান্টাম হার্ট ক্লাব।

বর্তমান বিশ্বে হৃদরোগ প্রাণঘাতি রোগ হিসেবে আভির্ভূত হচ্ছে। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৭৩ লক্ষ মানুষ প্রতিবছর মারা যাচ্ছে। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর ৪৫ ভাগ ঘটছে এই রোগের কারনে। এক সময় মানুষ ডায়রিয়া কলেরা এ ধরনের সংক্রামক রোগে বেশি মারা যেত। আর এখন মারা যাচ্ছে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে। তাই কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে ডাক্তার তাকে দ্রুত রিং পরানোর পরামর্শ দেন বা বাইপাস করার কথা বলেন। এখন দেখা যাচ্ছে কেউ রিং বা বাইপাস করলেও কিছুদিন পর তার আবার ব্লক হচ্ছে বা হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাচ্ছে। তাহলে এর থেকে মুক্তির কি কোনো উপায় নেই? এনজিওপ্লাস্টি ও বাইপাস ছাড়া কি হৃদরোগ নিরাময় সম্ভব?

এ সম্পর্কে কথা বলেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কোয়ান্টাম হার্ট ক্লাবের কো-অর্ডিনেটর ডা. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, রিং বা বাইপাস ছাড়া হৃদরোগ নিরাময় সম্ভব। বর্তমানে অসংখ্যা রোগী আমাদের কাছে আসছেন এবং অনেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছেন রিং বা বাইপাস ছাড়া। হৃদরোগ কেন হচ্ছে এটা আগে আমাদের জানা দরকার। বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৩ শতাংশ মানুষ মারা যাচ্ছে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে। প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্য এখন মৃত্যুর একমাত্র কারন হৃদরোগ। আমেরিকার মতো দেশে প্রতিবছর ছয় লক্ষ মানুষ হৃদরোগে মারা যাচ্ছে। হৃদরোগের মূল কারন হলো ভ্রান্ত জীবন দৃষ্টি ও অবৈজ্ঞানিক জীবনাচার। অতৃপ্তী, অশান্তি, অস্থীরতা এবং খাদ্যভ্যাস পরিবর্তন, তৈলাক্ত, চর্বিযুক্ত খাবার, ফাস্ট ফুড, ফল বা শাকসবজি কম খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম না করা, মেদ, স্থুলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধুমপান, রক্তের উচ্চ কোলেস্টেরল ইত্যাদি হচ্ছে হৃদরোগের প্রধানত কারন।

ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা মেডিটেশনের মাধ্যমে হৃদরোগ নিরাময় এবং প্রতিরোধ করে থাকি। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে হৃদরোগ পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। আমাদের এখানে একজন রোগির শতভাগ ব্লক হওয়ার পরও গত ২৪ বছরে তাকে কোনো ডাক্তার বা অপারেশনে যেতে হয়নি। এ রকম অসংখ্যা উদাহরণ আছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত আমাদের এখানে রোগীর সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে।

তিনি বলেন, যারা হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে বা হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে চায় তাদের জন্য প্রতিমাসে ‘হৃদরোগ নিরাময় ও প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে দুই দিনের একটি ওরিয়েন্টেশন কোর্স করে থাকি। এই কোর্সের মাধ্যমে একজন রোগীকে হার্ট সম্পর্কে, জীবনাচার সম্পর্কে পুরোপুরি জ্ঞান দেওয়া হয়। দুই দিনের এই কোর্সের মাধ্যমে হৃদরোগ নিরাময়ের জন্য যা যা দরকার সবকিছুই করা হয়। যেসব খাবারের কারনে হৃদরোগ হচ্ছে সে সকল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর সপ্তাহের প্রতি সোমবার বিকেল ৫টা থেকে ৭টায় সাবাইকে নিয়ে নিরাময় প্রোগ্রাম হয়।

ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের এখানে দু’ধরনের লোক আসেন। যাদের এখনো হৃদরোগ হয় নাই তারা আসেন প্রতিরোধের জন্য। আর যারা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছে তারা আসেন আরোগ্যর জন্য। এখানে এসে এ পর্যন্ত অসংখ্যা লোক ট্রিটমেন্ট নিয়ে সুস্থ আছেন। আমরা সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে মেডিটেশন ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এই চিকিৎসা দিয়ে থাকি।


আবহাওয়া

সিলেট
15°

অ্যাপস

সামাজিক নেটওয়ার্ক

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি