ভোর ৫:৫৭,   বৃহস্পতিবার,   ১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং,   ২৯শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ১৫ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
 

অবৈধভাবে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

অনলাইন ডেস্ক:
অর্ধশত বছরের পুরনো চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়ে অবৈধভাবে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে করে এলাকাবাসী আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হবে।

শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবৈধ কর্মকান্ডের প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ভূক্তভোগী ডুমুরিয়া উপজেলার চকমথুরা এলাকাবাসী। সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতা পাঠ করেন মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান।

লিখিত বক্তৃতায় তিনি বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর পার্শ্বে এবং ময়ূরী আবাসিক প্রকল্পের (সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়ক) দক্ষিণ পার্শ্বে ডুমুরিয়া উপজেলাধীন ৫৯ নং চকমথুরাবাদ মৌজার এই সড়কটির পাশেই রয়েছে পাঁচ শতাধিক মানুষের জমি।

পক্ষান্তরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিগ্রহণকৃত জমি পুরোপুরি কৃষ্ণনগর মৌজায়। যা বটিয়াঘাটা উপজেলার অন্তর্ভূক্ত। এই দুই মৌজা বিভক্তিকরণ হয়েছে ডেরার গাং বা খাল দ্বারা।

কিন্তু সম্প্রতিকালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয়ের নির্দেশে পরিকল্পনা বিভাগের সহায়তায়, এস্টেট শাখার দায়িত্বে থাকা জনাব কৃষ্ণপদ দাসের তত্ত্বাবধানে এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র এই পথটি কেটে তাদের নিয়ন্ত্রনে অন্তর্ভূক্ত করে পাকা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করেছে।

যার ফলে এলাকাবাসী একদিকে যেমন যোগাযোগের পথ হারাবে তেমনি বর্ষা মৌসুমে পানিতে হাবুডুবু খাবে।

খুবির উত্তর সীমানায় ডেরার গাং নামে যে খালটি ছিলো তা ওয়াপদার বেড়ীবাঁধের কারণে ময়ূর নদীর প্রবাহ না থাকায় ৫০/৬০ বছর আগে খালটি বিলুপ্ত হয়ে সমতল ভূমিতে পরিনত হয়।

তখন থেকেই জনগণ ভরাট হওয়া খালটি যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ২০১২ সালে টিআর, কাবিখা কর্মসূচির আওতায় উক্ত খালের এক পাশ দিয়ে জনস্বার্থে চলাচলের রাস্তাটি শহীদ এডভোকেট মঞ্জুরুল ইমামের নামে নামকরণ করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ড্রেন খনন করা হয়।

এই সড়কটি নির্মাণের জন্য ২০০৮ সালে খুবি কর্তৃপক্ষ ডেরার ভরাট হয়ে যাওয়া খালের উপর ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩০ ফুট প্রস্থ রাস্তা নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে আবেদন করে।

বর্তমানে এই সড়কের উপর দিয়ে খুলনা ওজোপাডিকোর বৈদ্যুতিক পিলার স্থাপন করে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।

ইতিপূর্বে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বহুবার জমি পরিমাপ করেছে। পুরাতন রেডিও বাংলাদেশ এর পিলারই তাদের সীমানা এবং সেই মোতাবেক খুবি কর্তৃপক্ষ তারকাটার বেড়া দিয়ে দখল করে রেখেছে।

কিন্তু খুবি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে অবৈধভাবে বিভিন্ন জায়গায় চকমথুরাবাদ মৌজার মধ্যের সম্পূর্ণ সড়কটি দখল নিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে চলেছে। এই বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞাকেও অমান্য করতে তারা পিছপা হচ্ছে না।

সর্বশেষ জেলা প্রশাসক মহোদয় এক তদন্ত ও জরিপের পর গত ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ তারিখে খুবি কর্তৃপক্ষকে ডেরার খালের উপর সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়ার জন্য নির্দেশও দিয়েছেন। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞার পর খুবি কর্তৃপক্ষ দ্বিগুণ উৎসাহের সাথে প্রাচীর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে খুবি কর্তৃপক্ষ বলছে, খুলনা জেলা প্রশসাক গত ২০ ফেব্রুয়ারী যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলো তা স্থগিত করে গত ২৫ মার্চ আরও একটি নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।


আবহাওয়া

সিলেট
20°

অ্যাপস

সামাজিক নেটওয়ার্ক

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি