সকাল ৮:১২,   রবিবার,   ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং,   ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ৯ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
 

ঈদযাত্রায় যাত্রীদের পদে পদে ভোগান্তি

রিপোর্ট ডেস্ক:
দু-দিন পরই মুসলিমদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আজও রাজধানী ছাড়ছে অসংখ্য মানুষ। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দিনভর বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার পাশাপাশি ছিল সহনীয় যানজট আর ট্রেনের ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয়।

সে ধারা অব্যহত আছে আজও। তবে গতকালের ন্যায় বিরুপ আবহাওয়া না থাকায় শুক্রবার ফেরি চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক হলেও পূর্বের চেয়ে কয়েকগুণ ভোগান্তি বেড়েছে সড়ক ও রেলপথে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ। সবমিলে এবারের ঈদযাত্রায়ও চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নাড়ীর টানে ঘরে ফেরা এসব মানুষ।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) রাজধানী ত্যাগ করতেই সাভার, নবীনগর, চন্দ্রা, টঙ্গী ও আশুলিয়ায় ব্যাপক যানজটের সম্মুখীন হচ্ছেন উত্তরাঞ্চলের মানুষ। গতকাল থেকেই বৃষ্টিতে ঢাকার সাভারে ঢাকা-আরিচা, নবীনগর-চন্দ্রা ও টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেডসহ শাখা সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ৪০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও গণপরিবহন সংকটে সাধারণ মানুষদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

আর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলছে ধীরগতীতে। এ সড়কের করটিয়া হাট বাইপাস থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত প্রায় দীর্ঘ ২৫ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন থেমে থেমে চলছে বলে জানা গেছে।

নীলফামারীগামী শ্যামলী পরিবহনের যাত্রী নিয়াজ মোর্শেদ একুশে টিভি অনলাইনকে জানান, গাড়ী ছাড়ার কথা ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায়, অথচ ৪ ঘণ্টা পর গাড়ী স্ট্যান্ডে এসে পৌঁছায় রাত সাড়ে ৩টায়। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর গাড়ী ছাড়লেও ভোগান্তির শেষ হচ্ছে না।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করে তিনি বলেন, দূরত্ব অনুযায়ী সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়া ৬০০ টাকা হলেও, দেড়শো টাকা বাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে সাড়ে সাতশ টাকা। এরপর আবার ভোগান্তির শেষ নেই। গাড়ী ছাড়ার প্রায় ৮ঘণ্টা পার হলেও এখনো সিরাজগঞ্জ পার হতে পারেনি। দীর্ঘ এ যানজট থেকে সাধারণ মানুষের কবে যে মুক্তি মিলবে তা বলা কঠিন-যোগ করেন তিনি।

ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়ে গেছে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায়। এ মহাসড়ক দিয়ে সকাল থেকেই যানবাহন চলছে স্বাভাবিক গতিতে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। এছাড়া চলমান বিআরটি প্রকল্পের কাজ ও সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় গর্ত থাকায় এ অবস্থা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে, ঈদযাত্রার তৃতীয় দিন রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রায় সব কটি ট্রেন দেরিতে ছেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন রেলপথে ঘরমুখো মানুষ। ট্রেনগুলো ঢাকা স্টেশনে সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় এমন বিপর্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। গত ৩১ জুলাই যারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন তারা আজ ঢাকা ছেড়েছেন।

আজ খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ভোর ৬টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে ৮টার পর কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যায়। উত্তরবঙ্গগামী ‘ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ ৪ ঘণ্টা বিলম্বে সাড়ে ৯টার দিকে ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্টেশন কর্তৃপক্ষ। এটি সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকা ছাড়ার কথা ছিল।

এ ছাড়া সকাল ৮টায় চিলাহাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’। কিন্তু তা সেই সময় পর্যন্ত প্লাটফর্মে এসে পৌঁছায়নি। ৩৭টি রুটের মধ্যে দু-একটি বাদে সব ট্রেনই বিলম্বে ছাড়ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। গতকাল বৃহস্পতিবারও উত্তরবঙ্গের সবকটি ট্রেন দুই থেকে তিন ঘণ্টা দেরি করে স্টেশন ছেড়েছে।

আবু ইসাহাক নামে রাজশাহীগামী এক যাত্রী বলেন, সকাল ৬টায় ট্রেন ছাড়ার কথা থাকলেও ছেড়েছে ৫ ঘণ্টা পর সকাল ১১টায়। তিনি বলেন, অন্য সময়ের তুলনায় দুই ঈদে একুট চাপ বেশি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বছরের পর বছর এভাবেই চলে আসছে। এর থেকে প্রতিকার পাচ্ছেনা এ পথে যাতায়াত করা মানুষ। প্রতিবারই ট্রেনের এমন ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয় সতিই একটা উন্নয়নশীল দেশের জন্য খুবই নিন্দাজনক-যোগ করেন তিনি।

ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে আজ শুক্রবার ৩৭টি আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে যাবে। এর মধ্যে ৩৪টি হচ্ছে নিয়মিত আন্তঃনগর ট্রেন; আর তিনটি হচ্ছে ঈদ স্পেশাল।

গত দুদিন টানা বৃষ্টি আর বিরুপ আবহাওয়ায় বাধারমুখে পড়লেও আজ অনেকটা স্বাভাবিক লঞ্চ ও ফেরি চলাচল। বৈরী আবহাওয়া কিছুটা কেটে যাওয়ায় পাটুরিয়া দৌলতদিয়া নৌ রুটের ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ঈদে ঘরমুখো যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন বাস যাত্রীরা। শুক্রবার সকাল থেকেই ফেরি পারাপারের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে।

বিআইডাব্লিউটিসির আরিচা অফিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দিনভর বৈরী আবহাওয়ায় ফেরি চলাচল ব্যহত হলেও শুক্রবার তা কিছুটা কেটে গেলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে পাটুরিয়া ঘাটে ঈদে ঘরমুখো যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়েছে। পাটুরিয়া ঘাটে সকাল থেকে শতাধিক যাত্রীবাহী বাস, ছোট প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও প্রায় ৩শ ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে নদীতে স্রোত থাকায় ফেরি চলাচল করছে ধীর গতিতে।শুক্রবার সকাল থেকে মোট ১৯টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে বলে জানান বিআইডাব্লিউটিসি কর্মকর্তারা।


আবহাওয়া

সিলেট
20°

অ্যাপস

সামাজিক নেটওয়ার্ক

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি