বিকাল ৩:৫১,   শুক্রবার,   ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং,   ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ১৪ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
 

কুরবানী হোক ত্যাগের, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের

রিপোর্ট ডেস্ক:
আল্লাহ তায়ালা মানব জাতি সৃষ্টির পর থেকেই কুরবানীর বিধান দিয়েছেন। পৃথিবীর সব জাতি ও সম্প্রদায় কোন না কোনওভাবে আল্লাহর দরবারে নিজেদের প্রিয় বস্তু কুরবানী দিয়েছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, “আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কুরবানীর এক বিশেষ রীতি পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছি। যেন তারা এসব পশুর উপর আল্লাহর নাম নিতে পারে। যে সব আল্লাহ তাদেরকে দান করেছেন”। (সূরা আল হজ্জ-৩৪)।

কুরবানীর ইতিহাস:
পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম (আ:)-এর সন্তান হাবিল ও কাবিলের মধ্যে বিয়ে নিয়ে মতভেদ দেখা দিল। আদম (আ.) তার এ দুই সন্তান হাবীল ও কাবীলের মতভেদ দূর করার উদ্দেশ্যে বললেন: ‘তোমরা উভয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানী পেশ কর। যার কুরবানী গৃহীত হবে, তার সাথেই আকলিমার বিয়ে দেয়া হবে।’

সে সময় কুরবানী গৃহীত হওয়ার একটা সুস্পষ্ট নিদর্শন ছিল যে, আকাশ থেকে একটি অগ্নিশিখা এসে সে কুরবানীকে জ্বালিয়ে দিত। আর যার কুরবানী কবুল হতো না তার টা সেখানেই পড়ে থকত।

তখনকার কুরবানীর পদ্ধতি সম্পর্কে জনা যায়, কাবিল ছিলেন চাষী। তিনি গমের শীষ থেকে ভাল ভালগুলো বের করে নিয়ে খারাপ গুলোর একটি আটি কুরবানীর জন্য পেশ করলেন। আর হাবিল ছিলেন পশুপালনকারী। তিনি তার জন্তুর মধ্যে থেকে সবচেয়ে ভাল একটি দুম্বা কুরবানীর জন্য পেশ করেন। এরপর নিয়মানুযায়ী আকাশ থেকে অগ্নিশিখা এসে হাবিলের কুরবানীটি ভষ্মীভূত করে দিল। আর কাবিলের কুরবানী যথাস্থানেই পড়ে থাকল। (সংক্ষেপ; তাফসীর ইবনু কাসীর, দুররে মনসূর, ফতহুল বায়ান, ৩/৪৫ ও ফতহুল ক্বাদীর, ২/২৮-২৯)

হাবিল ও কাবিলের কুরবানীর ঘটনা পবিত্র কুরআনে এভাবে বলা হয়েছে- “আপনি তাদেরকে আদমের দু’ পুত্রের ঘটনাটি ঠিকভাবে শুনিয়ে দিন। যখন তারা উভয়ে কুরবানী পেশ করলো, তখন তাদের একজনের কুরবানী গৃহীত হল, আর অপর জনের কুরবানী গৃহীত হলোনা। (সূরা আল মায়িদাহ, ২৭ আয়াত)। ‘আদম (আ.) থেকে মুহাম্মাদ (সা.) পর্যন্ত প্রত্যেক জাতিকে আল্লাহ তা’আলা তার নৈকট্য লাভের জন্য কুরবানীর বিধান দিয়েছেন। (তাফসীরে নাসাফী ৩/৭৯; কাশশাফ, ২/৩৩)।

মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে যত শরীয়ত নাযিল হয়েছে, প্রত্যেক শরীয়তের মধ্যে কুরবানী করার বিধান জারি ছিল। প্রত্যেক উম্মতের ইবাদতের এ ছিল একটা অপরিহার্য অংশ।

বর্তমান কুরবানীর ইতিহাস:
বর্তমান কুরবানীর ইতিহাস নবী ইব্রাহীম (আ:) থেকে এসছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ইব্রাহীম (আ.) যখন আমার কাছে দু’আ করল- হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে এক সৎকর্মশীল পুত্র সন্তান দান কর। অতঃপর আমি তাকে এক অতি ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম। অতঃপর সে যখন তার পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছল, তখন ইবরাহীম (আ:) বলল, ‘বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি। এখন বল, তোমার অভিমত কী? সে বলল, ‘হে পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তাই করুন। আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীলই পাবেন। দু’জনেই যখন আনুগত্যে মাথা নুইয়ে দিল আর ইবরাহীম তাকে কাত করে শুইয়ে দিল। তখন আমি তাকে ডাক দিলাম, ‘হে ইবরাহীম! স্বপ্নে দেয়া আদেশ তুমি সত্যে পরিণত করেই ছাড়লে। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। অবশ্যই এটা ছিল একটি সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি এক মহান কুরবাণীর বিনিময়ে পুত্রটিকে ছাড়িয়ে নিলাম। আর আমি তাঁকে পরবর্তীদের মাঝে স্মরণীয় করে রাখলাম। ইবরাহীমের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! সৎকর্মশীলদেরকে আমি এভাবেই প্রতিদান দিয়ে থাকি। সে ছিল আমার মু’মিন বান্দাহদের অন্তর্ভুক্ত। (সূরা আস-সাফফাত: ১০০-১১১)।

সেই থেকে মুসলমানরাও তেমনি ঈদুল আযহার দিন অর্থাৎ ১০ জিলহজ তারিখে পশু কুরবানীর মাধ্যমে নিজেদের প্রিয় জান-মাল আল্লাহর পথে কুরবানী করার সাক্ষ্য প্রদান করেন। মুসলিম মিল্লাতের পিতা হযরত ইবরাহীম আ. এর সেই কুরবানীকে শাশ্বত রূপদানের জন্যেই আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল সা. এই দিনে মুসলমানদেরকে ঈদুল আযহা উপহার দিয়েছেন এবং এ কুরবানী করার নির্দেশ দিয়েছেন।

কুরবানীর সাওয়াব:
কুরবানীর সাওয়াব সম্পর্কে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রাসূল (সা:) এর সাহাবাগণ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ: এই কুরবানী কী? রাসূল (সা.) বললেন, এটা তোমাদের পিতা ইবরাহীম (আ.)-এর সুন্নত। তারা আবার জানতে চাইলেন, কুরবানীতে আমাদের জন্য কি রয়েছে? রাসূল (সা.) বললেন, কুরবানীর পশুর প্রত্যেক লোম পরিবর্তে সওয়ার রয়েছে…।

হাদীস শরীফে এসেছে- তোমাদের কুরবানীর পশুগুলোকে সুন্দর ও সাস্থ্যবান কর, কেননা এগুলো পুলসিরাতে তোমাদের বাহন হবে। (দায়লামী)।

যারা নিসাবের মালিক হয়েও কুরবানী করবেন না, তাদের ব্যপারে রাসূল (সা.) বলেন, যার সামর্থ্য আছে অথচ কুরবানী করল না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে। (মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস : ৩৫১৯; আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব ২/১৫৫)।


আবহাওয়া

সিলেট
26°

অ্যাপস

সামাজিক নেটওয়ার্ক

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি