রাত ২:০৮,   সোমবার,   ১৯শে আগস্ট, ২০১৯ ইং,   ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ১৬ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
 

ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা জাতীয় পার্টির

রিপোর্ট ডেস্ক:
সদ্য প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে কতটুকু সফল হবে তা নিয়ে পার্টির নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ পার্টির মধ্যে নেতৃত্বের লড়াই নিয়ে এরইমধ্যে তৈরি হয়েছে দুইটি গ্রুপ। এক গ্রুপে রয়েছেন দলটির সিনিয়র কো চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ অপর অংশে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

বেগম রওশন এরশাদের পক্ষে রয়েছেন দলটির সিনিয়র নেতারা এবং দলীয় সংসদ সদস্যরা। আর জি এম কাদেরের সঙ্গে রয়েছেন রংপুর ও ঢাকা মহানগরীর তৃণমুল নেতাকর্মীরা। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে জাতীয় পার্টির কতটুকু প্রভাব বিস্তার করতে পারবে তা নিয়ে সন্দিহান দলটির নেতাকর্মীরা। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে এ সব তথ্য জানা গেছে।

জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদের এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি এবং ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ শেষ হলেই জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে সাংগঠনিক সফর করা হবে। দলকে সুসংগত করতে আমরা পরিকল্পিতভাবে এগুচ্ছি।’

জি এম কাদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টি সামনে বড় একটি জোটের নেতৃত্ব দেবে।’ তবে দলের মধ্যে কোনো গ্রুপিং নেই বলে জানান তিনি।

দলটির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে এখন থেকে ইসলামিক জাতীয়তাবাদী মুল্যবোধকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে জনসমর্থনের জন্য কাজ করা হবে। একইসঙ্গে দলকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য নানা পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এ জন্য তারা জামায়াতে ইসলামী বাদে অন্যান্য ইসলামিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এখন থেকেই জোট কিংবা মোর্চা গঠন করবে। তাদের ওই জোটের কিংবা মোর্চার নেতারা জেলা ও বিভাগীয় শহরে সমাবেশ-মহাসমাবেশ করবে। শীর্ষ নেতাদের মতে জোট গঠন হলে জাতীয় পার্টি আরও শক্তিশালী হবে। জনবল বৃদ্ধি পাবে। এতে করে দলটি সরকারের জনস্বার্থবিরোধী কার্যক্রমে জোরালোভাবে প্রতিবাদ ও বিরোধিতা করতে পারবে।

দলটির নীতি নির্ধারকরা জানান, দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ গত নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী বাদে অন্যান্য ইসলামিক রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে জোট করেছিলেন। সেই জোটে জাতীয় পার্টির সঙ্গে মোট ৫৮টি রাজনৈতিক দল যোগ দিয়েছিল। বর্তমানে জোটের কোনো কার্যক্রম নেই। কারণ জোট থেকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। ফলে জোটভুক্ত ইসলামি দলগুলো জাতীয় পার্টির সঙ্গে সুসর্ম্পক রাখছে না। এমনকি এরশাদের মৃত্যুর পর তার জানাজা নামাজে জোটের শরিকদলের অনেক শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেননি। ফের এই জোটকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব দলকে নিয়েই আবার জোট গঠন করা হবে।

জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুর্নীতির দায়ে জেল খেটেছিলেন প্রয়াত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এরপর জেল থেকে বের হয়ে প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশের ক্ষমতা এবং ভোটের রাজনীতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত রাখতে পেরেছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিকে নিজ নিজ দলে ভেড়াতে নানা উদ্যোগ নেন। যদিও এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সফল হলেও বিএনপি ব্যর্থ হয় দলটিকে তাদের সঙ্গে নিতে।

নেতারা জানান, দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধানের মৃত্যুর পর দলটির আগের মত সেই গুরুত্ব নেই। এর পেছনে মুল কারণ এরশাদের মৃত্যুর পর পরই দলটির শীর্ষ নেতারা নেতৃত্বের লড়াইসহ নানা ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়া। ফলে দলটির ভবিষ্যৎ কী হবে এমন প্রশ্ন উঠেছে দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে। তাদের মতে এরশাদের জীবদ্দশায় জাতীয় পার্টির অনেক কদর ছিল। এরশাদকে নিয়ে ভোটের রাজনীতিতে একটা হিসাব নিকাশ ছিল।

নেতা-কর্মীরা মনে করেন, দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এইচ এম এরশাদ পার্টির মধ্যে কোনো ঝামেলা কিংবা কোন্দল শুরু হলে তা খুবই সুচারুভাবে সমাধান করে সামনের দিকে এগিয়ে যেত। পার্টির কর্মসুচি পালনে এরশাদ অর্থ যোগাদান দিতেন। এখন পার্টির কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হয়। নেতা-কর্মীদের অনুদানে চলে পার্টির সাংগঠনিক কর্মসুচি। এক্ষেত্রে জি এম কাদের ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।

নেতা-কর্মীদের মতে জাতীয় পার্টি ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে সরাসরি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকেই অংশ নিয়েছিল। এরপর থেকে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গেই রয়েছে। সর্বশেষ একাদশ সংসদে আওয়ামী লীগের সাথে থেকে জাতীয় পার্টি ২২টি আসন নিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে। তবে প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ১৯৯৮ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটে যোগ দিয়ে অল্প কিছু দিন পর জোট থেকে বেরিয়ে যান।

এসব প্রসঙ্গ নিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, সবেক রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে অনেক উন্নয়নমুলক কাজ করেছেন। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, মসজিদ মাদ্রাসা, গীর্জা মন্দিরসহ সকল ধর্মীয় উপসনালয়ের বিদ্যুৎ ও পানির বিল মওকুফ করেছিলেন। দেশের মধ্যে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা করতে সড়ক নির্মাণ করেছেন। রাজধানী ঢাকা শহরকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে বেড়িবাঁধ দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘ইসলামী জাতীয়তবাদ নিয়ে পার্টিকে সামনের দিকে নিয়ে যাবো। জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে একটি জোট আছে ওই জোটকে তৎপর করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে তার আগে দলের জেলা-উপজেলা কমিটিগুলো করে দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করা হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দলের কাউন্সিল শেষ হবে।’

তিনি বলেন, ‘এসবের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে জোট গঠনের কার্যক্রম অব্যহত থাকবে। আগামী ৩ বছর জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে সারাদেশ চষে বেড়াব। এ সময় আমাদের ভূমিকা থাকবে সঠিক বিরোধীদলের মত। সংসদে এবং কঠোরভাবে সংসদের বাইরে সরকারের জনস্বার্থবিরোধী কাজের প্রতিবাদ করা হবে।


আবহাওয়া

সিলেট
26°

অ্যাপস

সামাজিক নেটওয়ার্ক

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি