রাত ৮:১৯,   শুক্রবার,   ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং,   ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ১৮ই সফর, ১৪৪১ হিজরী
 

তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে ,পানিবন্দি তিন হাজার পরিবার

অনলাইন ডেস্ক::
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত দুদিনের চেয়ে ২০ পানি সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা দাবি করেছেন। তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে এবং পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে বলেও তারা জানান।

এতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা অববাহিকার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ২৫টি চর ও গ্রামের পরিবারগুলো বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে ডালিয়াস্থ তিস্তা অববাহিকায় ভারি বর্ষণ চলছে। উজানের ঢল সামাল দিতে খুলে রাখা হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট। ইতোমধ্যে ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর এ ধরনের খবর পাওয়া গেলেও তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গতকাল বুধবারের চেয়ে তিস্তার পানি দুই সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সকাল ৬টা হতে দুপুর ১২ পর্যন্ত বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৬০ মিটার) দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে (৫২ দশমিক ৫৮ মিটার) প্রবাহিত হচ্ছে। বিকেল ৩টায় তিস্তার পানি বাইশপুকুর পয়েন্টে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।তবে তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই হিসাব মানতে নারাজ। তাদের দাবি- দাবি তিস্তা নদীর পানি কম করে হলেও বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড অজ্ঞাত কারণে নদীর পানির সঠিক হিসাব প্রকাশ করছে না।

এদিকে তিস্তা ব্যারাজ কন্ট্রোল রুমের পানি প্রবাহের খাতায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত হিসাব লেখা পাওয়া যায়। এতে দেখা যায়, ব্যারাজের উজানে ও ভাটিতে পানি প্রবাহ চলছে ৫৩ মিটার। যা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৬০ মিটার ) ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুপুর ১২টায় তিস্তা ব্যারাজের সঙ্গে লাগানো পূর্ব প্রান্তের গেজে ৫৩ মিটার পর্যন্ত পানির লেবেল উঠতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত দুই দিনের চেয়ে নদীর গর্জন অনেকাংশে বেড়ে গেছে। নদীর ঢেউ দুর্বার গতিতে ভাটির দিকে ধাপিত হচ্ছে।

ডিমলা উপজেলার পূবর্ ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল লতিফ খান জানান, গত দুই দিনের চেয়ে উজানের ঢলের গতি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এলাকার নিচু ও উঁচু স্থানে নদীর পানি প্রবেশ করেছে।চরেরগ্রামগুলোর ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। ইতিমধ্যে তার এলাকার ১ হাজার ৪০ পরিবারের বসতবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ঝাড়সিংহেশ্বর মৌজার ৬টি পরিবারের বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার কারণে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন বলেন, তার এলাকার চরখড়িবাড়ি মৌজায় তিস্তার বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ইতিমধ্যে সহস্রারাধিক পরিবারের বসতবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।পানি বৃদ্ধি অব্যহত রয়েছে।

ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ফরেস্টের চরে পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে । ইতিমধ্যে ছয়টি পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে আনা হয়েছে।

খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার বলেন, পূর্ব বাইশ পুকুর ও ছোটখাতা মৌজার পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়িতে বন্যার পানি বয়ে যাচ্ছে। নদী সংলগ্ন বসবাসরত পরিবারগুলোকে সতর্ক অবস্থায় থাকার জন্য বলা হয়েছে।

খসাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন বলেন, কিসামত ছাতনাই মৌজার তিন শতাধিক পরিবারের বসতবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। প্রতিটি বাড়ির উঠানে হাঁটু পানি রয়েছে। পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, উজানের ঢলের কারণে তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী তিস্তার পানি মাপা হচ্ছে। নদীর পানি সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছিল।


আবহাওয়া

সিলেট
26°

অ্যাপস

সামাজিক নেটওয়ার্ক

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি