বিকাল ৪:১৬,   বুধবার,   ২১শে আগস্ট, ২০১৯ ইং,   ৬ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ১৮ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
 

দিনে উবার চালক, রাতে চোরচক্রের মূলহোতা

রিপোর্ট ডেস্ক:
প্রথমে অভিজাত এলাকার বিভিন্ন কর্পোরেট অফিসে ঢুকে তথ্য সংগ্রহ করতো। এরপর সুযোগ বুঝে সুকৌশলে অফিসের তালা ভেঙে, কখনও গ্রিল কেটে চুরি করতো। গত ১৫ বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অভিজাত এলাকার বাসা ও অফিসে এমন দুই শতাধিক চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে সংঘবদ্ধ এ চক্রটি।

রোববার (২১ জুলাই) রাতে রাজধানীর বংশাল থেকে চক্রের মূলহোতা মফিজুর রহমান ও মমিনুল ইসলামসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা-উত্তর বিভাগের উত্তরা জোনাল টিম।

গ্রেফতার বাকিরা হলেন বদরুল হক ওরফে নাসির, জামাল উদ্দিন ও রাহাদ সরকার। এ সময় চোরাইকৃত ৫টি ল্যাপটপ, নগদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা, চোরাই কাজে ব্যবহৃত দুটি প্রাইভেটকার, তালা ভাঙার একটি সেলাই রেঞ্জ, দুটি স্ক্রু ড্রাইভার, একটি হেক্সো ব্লেড, একটি প্লাস ও একটি কেঁচি উদ্ধার করা হয়।

সোমবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. মাহবুব আলম।তিনি বলেন, দু-তিন বছর ধরে চক্রটি পরিচালনা করে আসছিল মফিজুর রহমান ও মমিনুল ইসলাম। মফিজুর রহমান পেশায় উবার চালক। মমিনুল আন্তঃনগর সোনার বাংলা ট্রেনের অ্যাটেনডেন্ট। দুজন রাজধানীর উত্তরা, ধানমন্ডি, কলাবাগান ও রমনা এলাকার বড় বড় কর্পোরেট অফিসের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতো। তথ্য সংগ্রহ শেষ হলে চক্রের বাকি তিন সদস্যকে একত্রিত করে চুরির পরিকল্পনা করতো।

মাহবুব আলম বলেন, প্রথমে মফিজুরের উবারের গাড়িতে চক্রটি রাতের বেলায় চুরি করার জন্য নির্দিষ্ট অফিসের নিচে যেত। গাড়ি থেকে চারজন নেমে অফিসের ভিতর প্রবেশ করতো। মফিজুর নিচে অপেক্ষা করত। অফিসের গেটে মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রথমে বিভিন্ন কৌশলে ডিজিটাল লক খোলা হতো। পরে অফিসের ভিতরে প্রবেশ করে প্রথমে সার্ভার বক্স ভেঙে হার্ডডিস্কটি নষ্ট করে ফেলতো। যাতে সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া না যায়। পরে ভিতরে নানা কৌশল অবলম্বন করে মোটা অংকের টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করতো।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির এ যুগ্ম কমিশনার বলেন, চক্রটি ১৫ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকার কর্পোরেট অফিসসহ নানা অফিসে প্রায় ২০০টির মতো চুরি করেছে। এভাবে তারা কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন কর্পোরেট অফিস থেকে চুরি করে।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা এ সংক্রান্ত সব অপকর্মের ব্যাপারে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড চাওয়া হবে।


আবহাওয়া

সিলেট
35°

অ্যাপস

সামাজিক নেটওয়ার্ক

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি