বিকাল ৩:২০,   শনিবার,   ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং,   ৫ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ১৫ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী
 

“ধর্ষণ আর মাদক” এই দুইটি সামাজিক ব্যাধি বিরাট আতঙ্কে পরিণত হয়েছে

এই সময়ে পৃথিবীর মানচিত্রে কোন না কোনও ভাবে মাথা উচু করিয়াই অবস্থান নিয়া আছে আমাদের দেশ, ব্যংলাদেশ।

৪৭ বৎসরের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের বিশাল কিচ্ছু ক্ষয় হইয়া গিয়াছে বা বঙ্গোপসাগর গ্রাস করিয়াছে এমন কিছুই আমার জানা নাই।

স্বাধীনতার পর হতে অদ্যাবদি অনাকাঙ্ক্ষিত যা সব ঘটিয়াছে তাহা শুধু আমাদের আভ্যন্তরীণ হিংসা বিদ্যেষের জের ছাড়া আর কিছুই নয় বলিয়া মনে করি।

চির সবুজ শান্তির এ দেশে মাঝে মাঝে এক একটি আতংক বিরাজ করে আসছে দেশ স্বাধীনের পর হতে অদ্যাবধি।

অনাকাঙ্ক্ষিত এইসব আতংক গুলি দেশের সরকারের বিপক্ষে কিংবা তড়িৎ দেশের ক্ষতি সাধনের জন্য ঘটে থাকলেও তা সাধারণ জনজীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যাতে প্রথমেই সাধারণের তীর্যক দৃষ্টি নিপতিত হয় দেশের সমসাময়িক সরকারের প্রতি। সরকার দল আর বিরোধী দলের মাঝে চলে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটানার দায়ভাব চাপাইবার চেষ্টা অপচেষ্টা।

ছেলে ধরা, মেয়ে পাচার,পাটগুদামে আগুন, গার্মেন্টসে আগুন, এসিড নিক্ষেপ, বোমাবাজি,গুম, পরীক্ষার প্রশ্ন ফাস,খুন, ধর্ষণ এই ভাবে এক একটি আতংক এদেশের জনসাধারণের আতংক এতোই তুংগে বিরাজ করিয়াছে যে দেশের সরকার, প্রশাসন, লোকেল প্রশাসন সহ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় গুরুতর প্রভাব ফেলিয়াছে।

অন্য বস্ত্র বাসস্থান চিকিৎসা এইসব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পরও মানুষের নাওয়া খাওয়া সহ স্বাভাবিক জীবন যাপনে বিরাট আঘাত হানে এসব আতংকগুলি।

যেকোন ভাবে এইসব আতংক গুলির কোনটা কিয়দাংশ, কোনটা আংশিক বা পুরো রেহাই পাইতে না পাইতে ” ধর্ষণ আর মাদক” এই দুইটি সামাজিক ব্যাধি বিরাট আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।

দেশের যুব সমাজের চরম অবক্ষয়ের মুখে এদেশের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ” মাদকের শেকড় সহ উপড়ে ফেলা হবে”!

এ নিয়ে দেশ ব্যাপী অভিযান চলেছে, উদ্ধার করা হয়েছে কল্পানাতীত পরিমান মাদক দ্রব্য সহ ধরাও পাকড়াও হয়েছেন অনেক অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টরা কিন্তু মাদক শেকড় সহ নির্নূল হইয়াছে কি না তা যারা মাদকের সাথে জড়িত ছিলেন তারাই ভালো বলিতে পারিবেন।

সবকিছুকে ছাড়িয়ে এখন এদেশে ধর্ষণের জঘন্য ইতিহাস রচিত হতে যাচ্ছে! নিষ্পাপ ও অপরিণত শিশু সহ প্রৌড়া পর্যন্ত এই অমানবিকতা থেকে রেহাই পাচ্ছেনা।

ইতিমধ্যে কয়েকজন উল্লেখযোগ্য ধর্ষককে এরেষ্ট করতে সক্ষম হয়েছেন প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগ। সম্প্রতি ধর্ষণের পর হত্যার স্বীকার শিশু সায়মার ধর্ষক ও ঘাতককে পাকড়াও করতে পেরেছেন প্রশাসন। বিভিন্ন মিডিয়ার ভাষ্যনুযায়ী বখাটে থেকে সচিবালয়ে কর্মরত কর্মচারী পর্যন্ত রয়েছেন এই ধর্ষণ কাজের অভিযোগে অভিযুক্ত, যারা এখন আইনি লড়াইয়ের মাঝে রয়েছেন। অবশ্যই আশা করি এদের সুষ্ঠ বিচার হবে এদেশেই।

তবে অনেকেইতো এফ,বি তে বলছেন দেশের প্রচলিত আইনের বিধানকে পাশ কাটিয়ে জরুরী ভিত্তিতে কোন আইন প্রনয়নের মাধ্যমে দেশের ধৃত সকল ধর্ষকদেরকে পাবলিক স্পটে এনে মৃতুদন্ড কার্যকর করলে এদেশের সরকারের বিপক্ষে জনগন বিরূপ মন্তব্য করবেন বলে মনে হয়না।

তবে দেশের প্রশাসন, সুশীল সমাজ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রালয় সহ আইন ও বিচার বিভাগের সম্মিলিত নীতি নির্ধারণ ও তার বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে ধর্ষণ নামক পৈচাশিকতা নির্মূল হতে বাধ্য।

লেখক,
এম, এ আহাদ পলাশ
চিত্রাংকন প্রশিক্ষক
বাংলাদেশ শিশু একাডেমী কুলাউড়া শাখা।


আবহাওয়া

সিলেট
34°

অ্যাপস

সামাজিক নেটওয়ার্ক

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি