রাত ৮:০৮,   শুক্রবার,   ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং,   ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ১৮ই সফর, ১৪৪১ হিজরী
 

নাজনীন আলম শুধু একটি নাম নয় ময়মনসিংহবাসির অনুভূতি

মানবিকতা, স্বজনপ্রীতি অন্য কোন বিবেচনায় বলী হয়ে মাঠের ত্যাগী ও জনপ্রিয় নারী প্রার্থীরা যেন বঞ্চিত না হয় এমন আক্ষেপ সবার মাঝে।

একাদশ জাতীয় সংসদে ময়মনসিংহের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে শেষদিনে জমা দিয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজনীন আলম।

জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা,  যোগ্যতা, ত্যাগ ও মাঠের অবস্থান বিবেচনা করে একাধিক নারী নেত্রীকে এ জেলায় মনোনয়ন দিতে পারেন বলে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহল মনে করছেন। ১১টি সংসদীয় আসন সমৃদ্ধ ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের বিশাল ঘাঁটি এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। প্রাপ্যতা অনুযায়ী এখানে একাধিক নারী প্রার্থীকে মনোনীত করার সুযোগ রয়েছে। মানবিকতা বা অন্য কোন বিবেচনায় বলী হয়ে মাঠে কাজ করা ত্যাগী ও জনপ্রিয় নারী প্রার্থী যেন সংরক্ষিত আসনে বঞ্চিত না হয় স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী এবং ময়মনসিংহবাসীর এমনটাই প্রত্যাশা।

দলটির স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ২০-২১ বছর ধরে এলাকায় ব্যতিক্রমী গণসংযোগ, জনসেবা এবং দলের পক্ষে ব্যাপক অবদান রেখে আসছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী নাজনীন আলম এবং তার স্বামী বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের বিপদ-আপদে সবার আগে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন এই দম্পতি। এভাবেই সকলের প্রিয় ও আস্থাবাজন হয়ে উঠেন তারা। ২০০১ নির্বাচন পরবর্তী দূর্দিনে আওয়ামীলীগের পক্ষে তাদের অবদান ছিল চোখে পরার মত। ২০০৮ সনের সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ব্যাপক অবদান রেখে নেতা কর্মীদের মন জয় করে নেন নাজনীন আলম। জেলার গন্ডি পেরিয়ে ধীরে ধীরে এখন সারা দেশের নেতাকর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে নাজনীন আলমের কর্মকান্ড ও ব্যতিক্রমী গণসংযোগের চিত্র।

সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. ক্যাপ্টেন (অব) মজিবুর রহমান ফকিরের অত্যাচার-নির্যাতনে এক পর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী ও গৌরীপুরবাসী। যখন মুজিবের বিরুদ্ধে কেউ কোন শব্দ করার সাহস পেত না ঠিক তখনই তার প্রতিবাদী হয়ে ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে মুজিবের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে আলোচনায় ঝড় তোলেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান নাজনীন আলম। বিপুল জনসমর্থন পেয়েও অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজনীন আলম। এর পর হতে দীগম্বর, মাথা ন্যাড়া করা এবং মামলা মোকদ্দমাসহ নানাবিদ অত্যাচার নির্যাতনের স্টীম রোলার চলে নাজনীন দম্পতি এবং তাদের সমর্থক ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের উপর। কিন্তু কিছুতেই মাঠ ছাড়েননি এই সাহসী নেত্রী। নির্বাচনী এলাকার প্রতি ইঞ্চি মাটিতে চষে বেড়ান তিনি। ফলে সাধারণ জনগণ ও নেতাকর্মীরা নাজনীন আলমের প্রতি দূর্বল হয়ে পরে। দিনে দিনে নাজনীন আলমের সমর্থনের পাল্লা ভারী হতে থাকে এবং তার পক্ষে সৃষ্টি হয় সহানুভূতির বিশাল ভোট ব্যাংক।

২০১৬ সালের ২ মে মজিবুর রহমান ফকির এমপির মৃত্যু হলে আসনটিতে উপ-নির্বাচনে তুমুল জনপ্রিয় ও আলোচিত প্রার্থী হয়েও আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হন নাজনীন। শোনা যায় গৌরীপুরে তেমন পরিচিত না হলেও তৎকালীন আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সুপারিশে তার বন্ধু প্রবীণ নেতা নাজিম উদ্দিন আহমদকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতে মনোনয়নের আশ্বাসে দলীয় হাই কমান্ডের নির্দেশে নিশ্চিত বিজয়ের উপনির্বাচন থেকে তখন সরে দাঁড়িয়ে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করেন এই দম্পতি।

এদিকে সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করে ভোটারদের মুখে মুখে আলোচনায় চলে আসেন নাজনীন। মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৬ জনের মধ্যে যে ৩-৪ জন প্রার্থীকে ঘিরে নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার জল্পনা-কল্পনা চলছিল তার মধ্যে নাজনীনই ছিলেন শীর্ষে। লক্ষ্যনীয় যে, সারা দেশের প্রার্থী তালিকায় এবার তেমন কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকান্ডে জনপ্রিয়তা হারানো সত্বেও প্রার্থী হিসেবে নাজিম উদ্দিন আহমেদের নাম ঘোষণা করা হলে তৃতীয় বারের মত আশা ভঙ্গ হয় নাজনীন ও তার সমর্থকদের। 

নাজনীন আলম এবার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দেয়ায় আবারো আশায় বুক বেধেছে তার সমর্থক ও স্থানীয় আওয়ামী প্রেমীদের মাঝে। বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনেই প্রার্থীদের মধ্যে জনমতে তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য এবং অনন্য উচ্চতায়। কেন্দ্রীয় একজন শীর্ষ নেতার বরাত দিয়ে ময়মনসিংহের একজন সাবেক ছাত্রনেতা জানান সারা বাংলাদেশের নারী মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে নিজ জেলায় এবং নিজের সাধারণ আসনে সর্বাধিক জনপ্রিয় নেত্রী নাজনীন আলম। এলাকাবাসীর দাবী বার বার বঞ্চিত, তুমুল জনপ্রিয় এবং ক্লিন ইমেজ সম্পন্ন তৃণমূলের এই নেত্রীকে আর যেন বঞ্চিত করা না হয়।

এ বিষয়ে নাজনীন আলম বলেন, ‘দলকে ভালোবেসে শুধু দিয়েই গেছি আমরা, কিন্তু একটি টাকার বেনিফিট কোনদিন দল থেকে আমরা নেইনি। রাজনীতির মাঠে শক্তিশালী অবস্থানে থেকেও বারবার বঞ্চিত হয়ে জনতাকে কাঁদিয়েছি। দলীয় হাইকমান্ড এবার সংরক্ষিত আসনে আমাকে মনোনয়ন দিয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন বলে আশা রাখি।


আবহাওয়া

সিলেট
26°

অ্যাপস

সামাজিক নেটওয়ার্ক

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি