বিকাল ৩:০৯,   শনিবার,   ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং,   ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ২০শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
 

নড়াইলে বিগত কয়েকটি নির্বাচনে বারবার নৌকার পরাজয়

অনলাইন ডেস্ক:
নড়াইলের লোহাগড়ায় বিগত কয়েক বারের নির্বাচনে নৌকার বারবার পরাজয় হয়েছে। মূলত, নড়াইলের মাটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি, নড়াইলের মাটি নৌকার ঘাঁটি বলা হলেও কেন এই পরাজয়? এ নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে হাজারো প্রশ্ন।

হঠাৎ করে স্থানীয়ভাবে অপরিচিত ব্যক্তিদের দলীয় প্রতীক নৌকা দেওয়া, দলের যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন না দেওয়া এবং দলের অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারণেই বারবার নৌকার পরাজয় হচ্ছে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, সর্বশেষ রোববার নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিকদার আব্দুল হান্নান রুনুকে (আনারস) নিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রাশিদুল বাশার ডলারকে পরাজিত করে।

বিজয়ী প্রার্থী আব্দুল হান্নার রুনু (আনরস) প্রতীকে ৩৬ হাজার ৩’শ ১৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রাশিদুল বাসার ডলার (নৌকা) প্রতীকে ২১ হাজার ২’শ ৫৫ ভোট পেয়েছেন। নৌকা প্রতীকের চেয়ে ১৫ হাজার ৬২ ভোট বেশি পেয়েছে আনারস।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাশিদুল বাশার ডলার ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতি করলেও তিনি অবস্থান করেন ঢাকায়। কেন্দ্রীয় রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন। স্থানীয়ভাবে নতুন মুখ ছিলেন বলে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা তাকে গ্রহণ করেনি।

তৃণমূলের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ ভোটারদের কাছে তিনি সহজভাবে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন তাই তার পরাজয় হয়েছে।

এদিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রাশিদুল বাশার পরাজিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে সমালোচনার ঝড়।

এর আগে গত পৌরসভার নির্বাচনে লোহাগড়া পৌরসভায় এমন করে অরাজনৈতিক ব্যক্তি লিপি খাতুন নামে একজনকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকায় মনোনয়ন দেওয়া হয়।

দলের দুর্দিনের কান্ডারি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম আশরাফকে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়।

দলের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের পাশকাটিয়ে অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ ভোটাররা নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন।

যার কারণে ওই নির্বাচনেও নৌকার ভরাডুবি হয়। জনপ্রিয় আশরাফুল আলম আশরাফ মেয়র নির্বাচিত হন।

তেমনি ভাবে জেলা পরিষদের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতাদের দলীয় মনোনয়ন না দিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হয় জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আইয়ুব আলীকে।

তিনি রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট হলেও স্থানীয়ভাবে তেমন জনপ্রিয় ছিলেন না।

আইয়ুব আলীকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে মাঠে নামেন সাবেক নড়াইল পৌরসভার বারবার নির্বাচিত মেয়র, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস।

নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাফিজ খান মিলন বলেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রাশিদুল বাশার ডলার রাজনৈতিক ব্যক্তি হলেও তিনি মুলত ঢাকার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত লোহাগড়ার রাজনীতিতে তিনি একেবারেই নতুন তাই দলীয় নেতৃবৃন্দ তাকে ভালভাবে গ্রহণ করেনি। এছাড়া অভ্যন্তরীন কোন্দলও পরাজয়ের একটা অন্যতম কারণ।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস বলেন, যোগ্যব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ায় বারবার নৌকা প্রতীকের পরাজয় হচ্ছে।


আবহাওয়া

সিলেট
36°

অ্যাপস

সামাজিক নেটওয়ার্ক

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি