দুপুর ১২:৪০,   মঙ্গলবার,   ২১শে মে, ২০১৯ ইং,   ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ১৪ই রমযান, ১৪৪০ হিজরী
 

ফণী কেন অস্বাভাবিক ঘূর্ণিঝড়?

অনলাইন রিপোর্ট:
ওড়িশা উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণী। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ১২টার মধ্যে পুরীতে আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড়টি। ধারণা করা হচ্ছে ২০০ কিলোমিটার বেগে ধাবমান এই ঝড় ওড়িশা ও সংলগ্ন রাজ্যগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাবে।

২০০৮ সালে সর্বশেষ বঙ্গোপসাগরে দেখা গিয়েছিল এ ধরনের ঘূর্ণিঝড়। এতে মিয়ানমারে বহু মানুষ প্রাণ হারায়। কিন্তু তার একটা বড় কারণ ছিল আধুনিক বিপদসংকেত ব্যবস্থার অপ্রতুলতা। সেবার মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার মত পরিকাঠামোও ছিল না।

অন্যদিকে ফণী সপ্তাহখানেক আগে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণপূর্বে তৈরি হওয়ার সময়কাল থেকেই এর উপর নজরদারি চলছে। কয়েক ঘণ্টা পরপরই মৎস্যজীবী ও উপকূলবাসী মানুষদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং ব্যাপকহারে আপৎকালীন ব্যবস্থাগ্রহণ চলছে। গত কয়েক বছরে ভারত সাইক্লোনজনিত বিপর্যয় মোকাবিলা করেছে খুব ভালভাবে।

ভারতের পূর্বভাগে ঘূর্ণিঝড় নতুন কিছু নয়। গড় হিসেবে দেখতে গেলে পাঁচ থেকে ছয়টি বড়সড় ঘূর্ণিঝড় প্রতি বছর বঙ্গোপসাগরে উদয় হয়। এপ্রিল ও মে মাসে বর্ষা শুরুর ঠিক আগে এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে বর্ষা শেষের ঠিক পরের সময়টাই সাইক্লোনের সময়।

কিন্তু ফণী অন্যসব ঘূর্ণিঝড়ের চেয়ে আলাদা। এর একটা বড় কারণ এর শক্তি এবং এর গতিপথ। এপ্রিল-মে মাসে যে সব ঘূর্ণিঝড় পরিলক্ষিত হয়, সেগুলো অক্টোবর-ডিসেম্বরের থেকে তুলনামূলকভাবে দুর্বল। বঙ্গোপসাগর এলাকায় ১৮৯১ সাল থেকে হিসাব করলে এপ্রিল মাসে যে সব ঘূর্ণিঝড় দেখা গেছে, তার মধ্যে মাত্র ১৪টি অতি শক্তিশালী। এর মধ্যে মাত্র একটি ভারতীয় ভূমি স্পর্শ করেছিল। সেটা ছিল ১৯৫৬ সালের ঘটনা। অন্য সব ঘূর্ণিঝড়ই মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল বাংলাদেশ, মিয়ানমার অথবা দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অন্য দেশের দিকে। ১৯৯০ সাল থেকে হিসেব করলে এপ্রিল মাসে এরকম মাত্র চারটি ঘূর্ণিঝড় দেখা গেছে।

ফণী শুধু শক্তিশালী নয়, অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি পরিমাপ করা হয় তার কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ দিয়ে। শক্তির দিক থেকে একেবারে নিচের দিকে যে ঘূর্ণিঝড় তার ক্ষেত্রে বাতাসের গতিবেগ হয় ৩০ থেকে ৬০ কিলোমিটার। এর ওপরে বাতাসের গতিবেগ থাকে ৬১-৮৮ কিলোমিটার। শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে বাতাসের গতিবেগ থাকে ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার। অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে বাতাসের গতিবেগ থাকে ১১৮-১৬৬ কিলোমিটার। সুপার সাইক্লোনের ক্ষেত্রে বাতাসের গতিবেগ হয় ২২২ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়।

বিষুবরেখার অতি নিকটে তৈরি হওয়া এ ঘূর্ণিঝড় ভূমিতে আছড়ে পড়ার জন্য যে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আসছে, তার ভিত্তিতেও ফণী অন্যরকম।

বঙ্গোপসাগরে স্থানীয় ভাবে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় সাধারণ ভাবে তৈরি হয় ১০ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে, চেন্নাই তিরুবনন্তপুরম রেখা ধরে। অন্যদিকে ফণী তৈরি হয়েছে বিষুবরেখার খুব কাছে ২ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে। দীর্ঘ সমুদ্রপথ ভেদ করায় শক্তি বাড়িয়েছে ফণী, যা এরকম মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের ধরন হিসেবেই আলাদা।

প্রাথমিকভাবে এর মুখ ছিল উত্তরপশ্চিমে, তামিলনাড়ুর উপকূলে। কিন্তু মধ্যপথে সে গতি পরিবর্তন করে এবং মুখ ঘোরায় ওড়িশা উপকূলের দিকে। এর ফলে সমুদ্রের ওপরে আরও সময় পেয়েছে এই ঘূর্ণিঝড়।

আইআইটি ভুবনেশ্বরের আবহাওয়াবিদ ইউসি মহান্তি বলেন, যদি ফণী প্রাথমিক গতিপথে থাকতে তামিলনাড়ু উপকূলে আছড়ে পড়ত, তাহলে এই ঘূর্ণিঝড় এখনকার মত এত দুরন্ত হতো না। সমুদ্রে দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে এর শক্তি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে।


আবহাওয়া

সিলেট
36°

অ্যাপস

সামাজিক নেটওয়ার্ক

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি