সকাল ৭:০১,   মঙ্গলবার,   ২৩শে জুলাই, ২০১৯ ইং,   ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ১৮ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী
 

বর্ষা মৌসুমে দম ফেলার ফুসরত নেই ঝালকাঠির ছাতা কারিগরদের

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
বর্ষা মৌসুমে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভাঙ্গা ছাতা জোড়াতালির কাজে ঝালকাঠির কারিগররা। শুধু কাজ আর কাজ, এতটুকু ফুসরত নেই তাদের জীবনে। কয়েক বছর আগেও গ্রাম অঞ্চলের ছাতা কারিগরদের গ্রাম-গঞ্জের হাট-বাজার-এমনকি বাড়িতে বাড়িতে গিয়েও ছাতা ঠিক করতে দেখা যেত। কিন্তু এখন তাদের দেখাই মেলে না। আগে শহরের পরিত্যাক্ত ভবন কিংবা গ্রামের স্কুল ভবনের বারান্দায় ওই অঞ্চলের ছাতা কারিগররা অবস্থান নিতেন। দিনভর কাজ করে রাতে ফিরতেন গন্তব্যে, কয়েক কারিগর মিলে একসাথে রান্না-বান্না করে খেতেন, ঘুমাতেন সেখানেই। আবার কাক ডাকা ভোর হওয়ার আগেই তারা বেরিয়ে পড়তেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। এভাবে বর্ষা মৌসুমে সবখানেই ছিল তাদের পদচারণা।

এরা সাধারনত গ্রাম্য পথ ও শহরের অলি-গলিতে হাক-ডাক দিয়ে ছাতা ঠিক করার কথা জানান দিতো বাড়িওয়ালিদের। তবে স্থানীয় ২/১ জন ছাতার কাজ করলেও তাদের সংখ্যা হাতে গোনা। তারা সাধারনত হাট-বাজারের কোন একটি দোকানঘর অথবা গলিমুখের এক পাশে সরু জায়গায় ছোট্ট একটি ফিড়া বা টুল কিংবা ইট বিছিয়ে তার উপর আসন বানিয়ে বসে পড়ে ছাতা ঠিক করতে।

এরুপ ঝালকাঠির পৌরশহরে ছাতা ঠিক করতে ব্যস্ত এক কারিগরের সাথে কথা হয়। কাজের ফাঁকে-ফাঁকে সে জানায়, তার বাবার পেশা ছিল এটি। বাবার কাছ থেকেই এ কাজ শিখেছে। আগে রোদ-বৃষ্টি থেকে রেহায় পেতে মানুষ ছাতাই ব্যবহার করতো। কিন্তু এখন মানুষ অনেক সৌখিন হয়েছে। এখন মানুষ রেইন-কোর্ট ব্যবহার করে। আগে রাস্তা এত ভালো ছিল না, যে কারণে রাস্তায় যানবাহনের চলাচল ছিল কম। কিন্তু গ্রামের রাস্তাও পিচ হয়েছে। এর ফলে গ্রাম্য রাস্তায় ইজিবাইকসহ নানা ধরনের যান চলাচল করে। এ কারণে লোকজনের চলাচলে ছাতার ব্যবহার কমে এসেছে।

তিনি আরোও জানান, আগে বর্ষার মৌসুমে প্রতিদিন হাজার টাকার উপরে আয় হতো। কিন্তু এখন তা কমে ৩’শ থেকে ৪’শ টাকায় নেমে এসেছে। জ্ঞান বুদ্ধি হওয়ার পর এ পেশার মায়ায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছি বিধায় এখনো এ পেশা ছাড়তে পারিনি। তবে এভাবে চলতে থাকলে পরিবার-পরিজনের মুখে দু’বেলা-দু’মুঠো অন্ন জোগাতে ভবিষ্যতে কতদিন এ পেশায় নিজেকে জড়িয়ে রাখতে পারবো তা বলতে কঠিন।


আবহাওয়া

সিলেট
26°

অ্যাপস

সামাজিক নেটওয়ার্ক

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি