বিকাল ৫:৪৭,   বুধবার,   ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং,   ৮ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ২২শে সফর, ১৪৪১ হিজরী
 

বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি থাকার প্রয়োজন নেই: ছাত্রকল্যাণ পরিচালক

অনলাইন রিপোর্ট:
বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি থাকার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার পর ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এ মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে এসে তোপের মুখে পড়েন এই অধ্যাপক।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক মিজানুর রহমান ক্যাম্পাসে আসলে আন্দোলনকারীরা তাকে ঘিরে ধরেন। এসময় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের জন্য তার কাছে দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘স্যার, যে ঘটনা ঘটলো ক্যাম্পাসে। তাতে আপনি ছাত্ররাজনীতি বন্ধের ঘোষণা দেবেন কিনা।’ কিন্তু শিক্ষার্থীরা ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের কাছ থেকে সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে তোপের মুখে পড়েন তিনি।

পরে অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন নেই।’

এসময় শিক্ষার্থীরা করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান।

এরপর শিক্ষার্থীরা বুয়েট উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে আসার জন্য ছাত্রলকলাণ পরিচালককে অনুরোধ করেন।

এদিকে বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদ বলেছেন, আমরা গতকাল ভিসির সঙ্গে দেখা করেছিলাম। এরপর তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়নি।

ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলনে নেমেছেন বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ফাহাদ হত্যার বিচারে আট দফা জানিয়েছেন তারা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, ফাহাদ হত্যার বিচার দ্রুত টাইব্যুনালে করতে হবে। হত্যায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ফাঁসি দিতে হবে। বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। এছাড়া প্রশাসনের জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে আজ সকাল থেকে বুয়েট ক্যাম্পাস উত্তাল। আবরারের সহপাঠীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ১০টায় বুয়েট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে ‘বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে একটি মিছিল শুরু করেন তারা।

এসময় ‘খুনীদের ঠিকানা, এই বুয়েটে হবে না’, ‘ফাঁসি ফাঁসি, ফাঁসি চাই’, ‘প্রশাসনের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘ভিসি তুই নীরব কেন, জবাব চাই, দিতে হবে’ এসব স্লোগান দিতে শোনা যায় শিক্ষার্থীদের।

এর আগে সোমবার রাতে ঢাকা মেডিকেল থেকে আবরারের লাশ বুয়েট ক্যাম্পাসে আনা হয়। এরপর রাত ১০টার দিকে পরিবারের স্বজন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের উপস্থিতিতে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বুয়েটের অ্যাম্বুলেন্সে স্বজনরা আবরারের মরদেহ কুষ্টিয়াতে দাফন করাতে নিয়ে যান।

শিক্ষার্থীরা জানান, আবরারের জানাজায় পরিবারের সদস্যরা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সহপাঠীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রায় দুই হাজার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

জানাজার পর বুয়েটের শেরে বাংলা হলের সামনে শিক্ষার্থীরা সমাবেত হয়ে খুনিদের ফাঁসি চেয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এরপর সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহীদ সৃতি হল, কেন্দ্রীয় মসজিদ, তিতুমীর হল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলসহ কয়েকটি হল প্রদক্ষিণ করে তারা বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন।

ওই সমাবেশ থেকে আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করা হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে বলেও জানান আন্দোলনকারীরা। এরপর সমাবেশ শেষ করে তারা নিজ নিজ হলে ফিরে যান।


আবহাওয়া

সিলেট
25°

অ্যাপস

সামাজিক নেটওয়ার্ক

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি