সকাল ৮:১৩,   বুধবার,   ২৪শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং,   ১১ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ১৭ই শাবান, ১৪৪০ হিজরী
 

বোরো চাষে ব্যস্ত জৈন্তাপুরের কৃষকরা

নিউজ ডেস্ক:
বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন সিলেটের জৈন্তাপুরের কৃষকরা। শীতের হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে জমি প্রস্তুতে পানি সেচ আর হাল চাষ চলছে।

এদিকে আগের বছরে বোরো ও আমন মওসুমে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় এবারও বেশ ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে বোরো আবাদে এখানকার কৃষকরা।

তবে বেশ কয়েকটি হাওরে সেচ ও পানি সঙ্কটের কারণে বোরো আবাদ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কৃষক। অন্যদিকে ফলন ভালো পেতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তেমন সহযোগিতা ও পরামর্শ পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করছেন কোন কোন কৃষক।

জানা গেছে, চলতি বছর আবহাওয়া বোরো চাষের অনুকূলে থাকায় ও বীজতলা রোগ-বালাই না থাকায় চাষীরা বোরো চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তারা ৩০ থেকে ৪০ দিন বয়সী চারা জমিতে রোপণ করছেন। তবে মাঘ মাসের শেষের দিকে পুরোদমে বোরো রোপণ শুরু হবে বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন।

জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য মতে এ বছর জৈন্তাপুর উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে ৪ হাজার ৭শ ১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৩২ হাজার ৯শ ৭০ মেট্রিক টন চাল। ইতোমধ্যে জেলার প্রায় ৩০ ভাগ জমিতে রোপণ করা হয়েছে বোরো ধান। ফলন ভালো পেতে তাইতো তীব্র শীত উপেক্ষা করে চাষাবাদে ব্যস্ত কৃষকরা।

৬ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে বোরো আবাদ। কলের লাঙল ও ট্রাক্টর দিয়ে মাটি চাষ করে তৈরি হচ্ছে বোরো ক্ষেত। দেওয়া হচ্ছে জমিতে সার ও সেচ। শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় সেচ পাম্প থেকে পানি নিচ্ছেন চাষিরা। আবার কোথাও সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হচ্ছে ইরি ধানের চারা। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের ব্যাপারে আশাবাদী তাঁরা। পাশাপাশি ধান উৎপাদনের খরচ বাড়ায় উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা।

জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর গ্রামের কৃষক তাজ উদ্দিন মাশুক বলেন, বোরো রোপণের জন্য জমি তৈরি করা হচ্ছে। তিনি চলতি মৌসুমে ২৭ একর জমিতে বোরো চাষাবাদ করবেন। এখন পর্যন্ত ২০ একর জমিতে বোরো রোপণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবার ভালো ফলন হবে বলেও আশা করছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে এখনো আমাদের কোন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হয়নি। আমরা সরকারী ভাবে সার বা বীজ কোন কিছু পাই নি। সার ও উন্নত জাতের বীজ পেলে আমরা আরো উপকৃত হতাম।

জৈন্তাপুর উপজেলার হেমু মাঝপাড়া গ্রামের কৃষক আইন উদ্দিন বলেন, তিনি এ বছর ৩ একর জমিতে বোরো রোপণ করবেন। এ সপ্তাহের মধ্যে জমিতে চারা রোপণ কাজ সম্পন্ন হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, জৈন্তাপুর উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে ৪ হাজার ৭শ ১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৩২ হাজার ৯শ ৭০ মেট্রিক টন চাল। ইতিমধ্যে জেলার প্রায় ৫০ ভাগ জমিতে রোপণ করা হয়েছে বোরো ধান। আমরা কৃষকদের জমি চাষের সঠিক ব্যবহারসহ নানান পরামর্শ প্রদান করছি। কৃষকের মাঝে সার, বীজ দেয়ার ক্ষমতা আমার নাই । আমি শুধু কৃষকদের পরামর্শ দিতে পারবো।


আবহাওয়া

সিলেট
32°

অ্যাপস

সামাজিক নেটওয়ার্ক

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি