সন্ধ্যা ৭:৪১,   সোমবার,   ১৪ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং,   ২৯শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ১৪ই সফর, ১৪৪১ হিজরী
 

যতদিন বাঁচব এনআরসি করতে দেব না: মমতা

নিউজ ডেস্ক:
জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি)-এর প্রতিবাদ জানিয়ে পথে নামলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জি। বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তর কলকাতার সিঁথির মোড় থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলে পা মেলালেন মমতা।

এসময় তার সাথে ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, যুব কল্যাণ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, সংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, পরিষদীয় মন্ত্রী তাপস রায়, রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন, সাবেক সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী, বিধায়ক শশী পাঁজা, নয়না ব্যানার্জি সহ কাউন্সিলর, দলের অসংখ্য কর্মী-সমর্থকরা।

উত্তর কলকাতা তৃণমূল জয় হিন্দ বাহিনীর উদ্যোগে দুপুর আড়াইটে নাগাদ মিছিল শুরু হয়। এরপর প্রায় সাড়ে কিলোমিটার পথ পেরিয়ে রবীন্দ্রভারতীয়, চিড়িয়ামোড়, চুনীবাবুর বাজার, পাইকপাড়া, টালা ব্রিজ, বাগবাজার মোড় হয়ে বিকাল চারটা নাগাদ মিছিল পৌঁছায় শ্যামবাজার পর্যন্ত।

মঞ্চে উঠে বিজেপির বিরুদ্ধে ভারত ভাগ করার অভিযোগ এনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলার সংস্কৃতি নষ্ট করার চক্রান্ত চলছে, কিন্তু বাংলার সংস্কৃতিই দেশের সংস্কৃতি।” কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তার মন্তব্য “আরেকটা দেশ ভাগ করার চেষ্টা করবেন না, আরেকটা ভারত ভাগ করার চেষ্টা করবেন না। মহারাষ্ট্রে গিয়ে হিন্দিভাষীদের যদি বলা হয় দেশ ছাড়ো, তবে তারা কোথায় যাবে? বাংলায় যদি বলা হয় বিহারী লোক এখান থেকে চলে যাও, উত্তরপ্রদেশে গিয়ে যদি বলা হয় এখান থেকে বাঙালিরা চলে যাও বা দিল্লি থেকে বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে দূর করা হয় সেটা মেনে নেওয়া হবে না। যারা এটা করবেন তারা মনে রাখবেন আগুন নিয়ে খেলবেন না। আমরা সবাই দেশকে রক্ষা করার জন্য তৈরি আছি।”

আসামে এনআরসি’র নামে ১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ গেছে। তারমধ্যে ১২ লক্ষ হিন্দু আছে, ১ লক্ষ গোর্খা আছে, মুসলিম আছে, বৌদ্ধ আছে। মমতার অভিমত “স্বাধীনতার ৭৩ বছর পরেও আমাদের স্বাধীনতার প্রমাণ দিতে হবে? এখানে এসে ওরা (বিজেপি) বলছে দুই কোটি মানুষের নাম বাদ দেবে, আমি বলছি দুটো লোকের গায়ে একবার হাত দিয়ে দেখো? এত সস্তা নয়। লাখ লাখ পুলিশ দিয়ে আসামের মানুষের মুখ বন্ধ করা যাবে কিন্তু বাংলার মানুষের মুখ বন্ধ করা যাবে না।”

তিনি আরো বলেন, “আসামে যাদের নাম বাদ গেছে, তাদের জন্য কারাগার তৈরি করছে। তাদের সবাইকে কারাগারে রেখে দেবে কিন্তু বাংলায় আমি যতদিন বেঁচে থাকব, তোমার ক্ষমতা থাকলে তুমি এনআরসি করে দেখাও। আমি আমি মরে গেলেও আমার দল করতে দেবে না। তাছাড়া আমি চারটি প্রজন্ম তৈরি করে দিয়ে গেছি, তাই কাজটা সহজ নয়।”

বিজেপিকে উদেশ্য করে মমতার স্পষ্ট বার্তা “হিন্দু, মুসলিম, শিখ, ক্রিস্টান-ধর্মের ভিত্তিতে, ভাষার ভিত্তিতে, বর্ণের ভিত্তিতে বা জাতীর ভিত্তিতে এন.আর.সি মানবো না।” দেশ জুড়ে অর্থনৈতিক সঙ্কটের অভিযোগ তুলে মমতা বলেন এই সঙ্কট ঢাকতেই এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন “এশিয়ায় ভারতের জিডিপি সবচেয়ে কম ৫ শতাংশ। বাংলাদেশ, পাকিস্তান এর পরেও ভারতের স্থান।”


আবহাওয়া

সিলেট
27°

অ্যাপস

সামাজিক নেটওয়ার্ক

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি