ভোর ৫:০৮,   মঙ্গলবার,   ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং,   ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ১৭ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
 

শিশু সিয়ামের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা!

নিউজ ডেস্ক:
খেলতে গিয়ে শিশুদের ঝগড়া, সেই থেকে মারামারি। প্রত্যেকের শৈশবে এমন স্মৃতি থাকলেও বিষয়টি এখন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার পলাশীপাড়ার ৮ বছর বয়সী শিশু সিয়ামের জন্য দুঃস্বপ্নের। এমন একটি ঘটনার জন্য তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মেহেরপুরে দুটি পরিবারের মধ্যে বিরোধের জের ধরে বন্ধুকে আঘাত করা মামলার আসামি মেহেরপুর গাংনী উপজেলার পলাশীপাড়া গ্রামের শিশু সিয়াম। সে স্থানীয় একটি স্কুলের ২য় শ্রেণির ছাত্র।

আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানায় তাকে গ্রেফতার করে নেয়া হয় আদালতে। আসামিপক্ষের আইনজীবী বলছেন, দণ্ডবিধির ৮২ ধারায় স্পস্ট উল্লেখ রয়েছে ৯ বছরের কোনো শিশু মামলার আসামি হতে পারে না। এখানে আইনজীবী, তদন্ত কর্মকর্তা ও আদালতের অন্তরিকতার অভাবেই এমনটি হয়েছে। আর পুলিশ বলছে, ঈদের পরই মামলাটি শিশু আদালতে হস্তান্তর করা হবে।

২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর বিকেলে বাড়ির পাশে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করছিলো সিয়াম। এ সময় বন্ধু সাথী খাতুনের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ইটের টুকরা ও বালু ছুড়ে মারে সাথীর চোখে। চোখের অবস্থা খারাপ হলে তাকে নেয়া হয় ঢাকার ইস্পাহানি ইসলামী আই ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হসপিটালে। এর দুই মাস পর সিয়ামের দাদা ইনজাল কারিগরের নামে মেহেরপুরে কোর্টে মামলা করেন সাথীর বাবা দেলোয়ার হোসেন। ওই মামলায় ১৮ দিন হাজতবাস করেন তিনি। পরে ইনজালকে মামলা থেকে অব্যহতি দেয় গাংনী থানা পুলিশের এসআই আশরাফুল ইসলাম। আদালতে চার্জশিট দেয়া হয় সিয়ামের নামে। এরপর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। শুক্রবার রাতে আটক করা হয় শিশু সিয়ামকে। ওই দিনই তাকে জামিন দেয় আদালত।

তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জয়েন উদ্দিন জানান, ঘটনার পর থেকেই গ্রামের সমাজপতিরা উভয়পক্ষকে ডেকে মীমাংসা করতে ব্যর্থ হয়। আর শিশু সিয়ামের নামে চার্জশিট দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসি।

মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) শেখ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঈদের পরেই মামলাটি দ্রুত শিশু আদালতে হস্তান্তর করা হবে। ভুলবশত এমনটি হয়েছে বলে জানান তিনি।


আবহাওয়া

সিলেট
26°

অ্যাপস

সামাজিক নেটওয়ার্ক

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি