রাত ৩:২১,   বুধবার,   ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং,   ৮ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ২২শে সফর, ১৪৪১ হিজরী
 

শ্রমিক-কর্মচারিদের বেতন হিসেবে টাকার বদলে দেওয়া হচ্ছে চিনি

অনলাইন ডেস্ক:
ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকলে টাকা নেই। শ্রমিক-কর্মচারিদের বেতন হিসেবে টাকার বদলে চিনি দেওয়া হচ্ছে। আর আখ চাষীরা মিলে বিক্রি করা আখের দাম পাচ্ছেন না। তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। মিলটির কাছে চাষীদের আখ বিক্রির পাওনা টাকার পরিমাণ ৩৩ কোটি টাকা।

গত ৭ ডিসেম্বর মিলে চলতি মাড়াই মৌসুমের ( ২০১৮ – ২০১৯) উৎপাদন শুরু হয়। মিলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ইউসুফ আলি শিকদার জানান, ‘শুক্রবার পর্যন্ত মিলটি চাষীদের কাছ থেকে ৯৩ হাজার ৫৫০ টন আখ ক্রয় করে। যার মূল্য প্রায় ৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে মাত্র ৩ কোটি টাকা চাষীদের পরিশোধ করা হয়েছে। মিলের কাছে বিক্রিত আখের মূল্য বাবদ আখ চাষীদের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩৩ কোটি টাকা। মিলের কাছে প্রতিদিনই চাষীদের পাওনা টাকার পরিমাণ বাড়ছে। উৎপাদিত চিনি বিক্রি না হওয়ায় চাষীদের পাওনা পরিশোধ করা যাচ্ছে না।’

তিনি আরো জানান, ‘চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ১৯০ টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে। গত বছরের অবিক্রিত চিনিসহ মিলে ৫ হাজার ৪২৯ টন চিনি মজুত রয়েছে। মিলে প্রতি টন চিনির দাম ৫০ হাজার টাকা। মজুত চিনির মূল্য ২৭ কোটি সাড়ে ১৪ লাখ টাকা। মিলের রেটের চেয়ে খোলা বাজারে কম দামে চিনি বিক্রি হচ্ছে। এজন্য মিলের ডিলাররা চিনি তুলছে না।’

এদিকে চাষীরা মিলের কাছে বিক্রিত আখের দাম পেতে দিনের পর দিন ঘুরছেন। এতে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। তারা আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন। মোবারকগঞ্জ চিনিকল আখ চাষী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সস্পাদক মাসুদুর রহমান মন্টু বলেন, ‘পাওনা টাকার জন্য ঘুরতে ঘুরতে চাষীরা ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছে।’ তিনি চাষিদের পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি করেন।

এদিকে টাকার অভাবে মিল কর্তৃপক্ষ ৮১৫ জন শ্রমিক কর্মচারি ও ৩২ জন অফিসারের বেতন ভাতা পরিশোধ করতে পারছে না। মিলের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতিয়ার রহমান জানান, ‘টাকার বদলে চিনি দিয়ে তাদের বেতন ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে। প্রতি কেজি ৫০ টাকা দর ধরা হচ্ছে। এ চিনি ব্যবসায়ীদের কাছে ৪২ টাকা থেকে ৪৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে তাদের লোকসান হচ্ছে। কিন্তু কোন উপায় নেই।’


আবহাওয়া

সিলেট
22°

অ্যাপস

সামাজিক নেটওয়ার্ক

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি