বিকাল ৩:০০,   সোমবার,   ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং,   ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ২২শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
 

সরকারের পরিকল্পনার অভাব চামড়া ব্যবসায় ধস

রিপোর্ট ডেস্ক:
দেশে কুরবানি করা পশুর সংখ্যা বাড়ায় প্রতিবছরই পাঁচ থেকে সাত শতাংশ চামড়া বেশি সংগ্রহ হয়ে থাকে বলে তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন।
কিন্তু এবার উল্টো হয়েছে। ঈদের আগেভাগেই গত বছরের তুলনায় অন্তত ২৫ লাখ পিস চামড়া কম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা। তখন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পরিকল্পনা নেয়া হয়নি।
কাঁচা চামড়ার উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় রাস্তায় ফেলে দেয়া হয়, যা সিটি কর্পোরেশন আবর্জনার ভাগাড়ে ফেলে দেয়। আবার কেউ কেউ চামড়া গর্ত করে পুঁতে ফেলছেন। এভাবেই দেশের বিভিন্ন স্থানে চামড়া নষ্ট করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারা দেশে কাঁচা চামড়ার ব্যাপক ক্ষতির পর টনক নড়েছে সরকারের। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্তকে অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষ তা স্বাগত জানালেও ট্যানারি মালিকরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন।

ইতোমধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে তারা কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সরকারের বেঁধে দেয়া দামে নির্ধারিত সময়ের আগে কাঁচা চামড়া কেনারও ঘোষণা দিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা।

আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার চাহিদা নেই, ট্যানারিগুলোতে আগের বছরের ৫০ শতাংশ চামড়া অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমান অবস্থায় এত চামড়ার চাহিদা নেই, চামড়া কেনার জন্য পর্যাপ্ত ব্যাংক ঋণ পাওয়া যায়নি ইত্যাদি কারণ দেখিয়ে এতদিন ট্যানারি মালিকরাই কাঁচা চামড়া কেনার প্রতি অনাগ্রহ দেখিয়ে এসেছেন। ফলে চলতি বছর কুরবানির ঈদের পর সারা দেশে কাঁচা চামড়া বিক্রিতে ধস নামে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে গত ১৩ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত মূল্যে কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে না।

তাই চামড়ার উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে চামড়াশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।

সরকারের কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্তের পর নড়েচড়ে বসেন ট্যানারি মালিকরা। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) ও বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএলএফইএ) গত বুধবার (১৪ আগস্ট) আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার দাবি জানায়। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখনো চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্তে অটল।

এ ব্যাপারে গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রণালয় এখনো চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্তে অটল। এই মুহূর্তে চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত আমরা প্রত্যাহার করবো না। আমরা চাই দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প উন্নত হোক।
সেজন্য আমরা ওয়েড ব্লু চামড়া আগে রপ্তানির অনুমতি দেব। তারপর পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনে লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত দেব।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, কুরবানির চামড়ার বিষয়ে সরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এই ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনার অভাব ছিল। সরকারের উচিত ছিল, দেশের উৎপাদন ও চাহিদার কথা বিবেচনা করে চামড়া রপ্তানির বিষয়ে আরও আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নেয়া।

এখন চামড়া রপ্তানি করা হলেও সাধারণ মানুষ তার সুফল পাবে না। কুরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কারসাজির অভিযোগের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে কাল থেকে কাঁচা চামড়া কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সভাপতি মো. শাহিন আহমেদ বলেন, কাঁচা চামড়া বিদেশে রপ্তানি করলে এ শিল্প ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।


আবহাওয়া

সিলেট
30°

অ্যাপস

সামাজিক নেটওয়ার্ক

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি