রাত ২:৩০,   সোমবার,   ১৯শে আগস্ট, ২০১৯ ইং,   ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,   ১৬ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
 

হংকং আন্দোলনের উত্তাপ লাগছে অর্থনীতিতে

নিউজ ডেস্ক:
এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হংকং। ওয়াল্ট ডিজনি থেকে ম্যারিয়ট- আন্দোলনের উত্তাপ লাগছে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গায়ে। মঙ্গলবার বাতিল করা হয়েছে সব ফ্লাইট।

ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনের মুখে সব ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে হংকং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী কেরি লাম বলেছেন, আন্দোলনকারীদের কারণে এমন অবস্থা তৈরি হচ্ছে, ‘যেখান থেকে ফিরে আসা কঠিন হয়ে যাবে।’ বিক্ষোভকারীরা পুরো শহর জুড়ে আতঙ্ক আর সহিংসতা ছড়িয়ে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রত্যর্পণ বিল শুধু নয়, কেরি লামের পদত্যাগের দাবিতে ফুঁসছে হংকং।

হংকংয়ের ওয়াল্ট ডিজনির ডিজনিল্যান্ডে নেই মানুষের আনাগোনা। চলমান বিক্ষোভের কারণে এই বিনোদন কেন্দ্রের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছে মানুষ। মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী বব ইগার স্বীকার করেছেন এই দুরবস্থার কথা। হংকংয়ের ফ্ল্যাগশিপ এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠান ক্যাথে প্যাসিফিক বলছে, জুলাই থেকে টিকিটের চাহিদা অনেক কমে গেছে। অল্পসংখ্যক মানুষ এসেছে শহরে। আগাম বুকিং যেগুলো ছিল, সেগুলোও বাতিল করছেন যাত্রীরা। ব্যবসায় না হয় খারাপ সময় এলো কিছুটা, কিন্তু সামনে এসেছে আরেক সংকট। এয়ারলাইন্সটিতে কর্মরতদের মধ্যে যারা আন্দোলনে যোগ দিয়েছে তাদের নিষিদ্ধ করার কথা বলেছে বেইজিং।

ইন্টারকন্টিনেন্টালের ক্রাউন প্লাজা আর হলিডে ইন এ মাসের শুরু থেকে বলে আসছে, চাহিদা বলে কিছু নেই। পর্যটকরা যেমন আসছেন না, তেমনি এই অস্থিরতার মধ্যে নেই কর্পোরেটদেরও আনাগোনা। এই সংকটের বাইরে নেই ম্যারিয়ট হোটেলও। চলমান অস্থিরতায় কারটিয়ের কিংবা প্রাদার মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডেও মন্দা লেগেছে। চীনের ধনাঢ্য ক্রেতাদের কাছে ব্র্যান্ডগুলো ছিল বেশ জনপ্রিয়। কারটিয়ের মালিক রিচেমন্ট জানিয়েছেন, দোকান বন্ধ রাখা আর পর্যটক ঘাটতি, বিশেষ করে চীনা পর্যটক না আসায় বেচা-বিক্রি নেই বললেই চলে।
খুচরা ব্যবসা ছিল শহরের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। জুন মাসে দেখা গেছে, বিক্রি কমে গেছে প্রায় ৯৩ শতাংশ। আন্দোলনের প্রভাবে জুলাইতেও কোনও ব্যবসা হয়নি। আগস্টে এসে উত্তরণ হয়নি পরিস্থিতির। এই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়াটা বড় চ্যালেঞ্জ।

হংকংয়ের অর্থনীতি একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রোববার এ কথা জানিয়েছেন শহরটির অর্থ সচিব পল চান। তিনি বলেন, এ কারণে বাণিজ্য সংকটের মুখে পড়েছে, অর্থনীতির গতিটাও শ্লথ হয়ে গেছে। ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ শহরের যে খ্যাতিটা ছিল, এই আন্দোলন সেই সুনামকেও আঘাত করেছে। অর্থনৈতিক মন্দার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন শহরটির প্রধান নির্বাহী কেরি লাম।


আবহাওয়া

সিলেট
26°

অ্যাপস

সামাজিক নেটওয়ার্ক

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি