[ad_1]
কানপুরের এই ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলা নিয়েই প্রশ্ন তোলে না, পুলিশের ভাবমূর্তিও নাড়া দেয়। নাবালিকাকে অপহরণ ও গণধর্ষণের এই ঘটনা পুরো পুলিশ বিভাগে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তদন্ত অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে যে স্তরগুলি উন্মোচিত হয়েছে তা আরও ভয়ঙ্কর প্রমাণিত হয়েছে। এই জঘন্য ঘটনার সঙ্গে বাইরের কোনো অপরাধী জড়িত না থাকলেও আইনের রক্ষক নিজেই বলে অভিযোগ।
ঘটনাটি ঘটেছে সাচেন্দি থানা এলাকায়। ভিকটিম জানায়, রোববার রাত ১০টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। এ সময় তার কাছে একটি কালো স্করপিও গাড়ি এসে থামে। গাড়িতে থাকা দুই যুবক আচমকা তাকে ধরে জোর করে গাড়ির ভেতরে নিয়ে যায়। ভিকটিম কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাড়িটি প্রবল বেগে অন্ধকারের দিকে চলে যায়। গাড়িতে থাকা যুবকরা তাকে সাচেন্দি এলাকায় রেললাইনের কাছে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। গাড়িটি সেখানে দাঁড় করানো ছিল। গাড়ির জানালা বন্ধ, বাইরে নিস্তব্ধতা। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রায় দুই ঘণ্টা গাড়ির মধ্যে তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। তিনি চিৎকার করতে থাকেন এবং সাহায্যের জন্য অনুনয়-বিনয় করতে থাকেন, কিন্তু বন্ধ জানালা এবং নির্জন এলাকার কারণে তার চিৎকার বাইরে পৌঁছাতে পারেনি। দুই ঘণ্টা ধরে তিনি প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর সঙ্গে লড়তে থাকেন।
ভীমসেন ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর অমিত মৌর্য এই ঘটনায় সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগ। তদন্তে জানা গেছে, স্করপিও গাড়িটি ইন্সপেক্টরের ছিল এবং তাতেই নাবালিকাকে গণধর্ষণ করা হয়েছিল। শিববরণ নামে এক অভিযুক্ত সাংবাদিকের সঙ্গে যোগসাজশ করে ইন্সপেক্টর এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনার পর নির্যাতিতার অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেলে এবং সে সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়লে অভিযুক্তরা গভীর রাতে তাকে বাড়ির কাছে ফেলে পালিয়ে যায়। কোনোরকমে সে সাহস জোগাড় করে বাড়িতে পৌঁছে তার পরিবারের কাছে তার অগ্নিপরীক্ষার কথা জানায়। পরিবারের ওপর যেন পাহাড় ভেঙে পড়ল। নির্যাতিতার ভাই দেরি না করে ডায়াল-112 এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।
মেয়েটি শুরুতে দেরি করে রেখেছিল
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্যাতিতা ও তার ভাইকে ভীমসেন থানায় নিয়ে গেলেও প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতিতা নাবালক হওয়া সত্ত্বেও, POCSO আইনে অবিলম্বে একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, মামলায় একজন পুলিশ সদস্যের নাম আসায় ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছালে সাচেন্দি থানায় একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। তবে এতেও ভুক্তভোগী পক্ষের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। এফআইআর-এ অভিযুক্তদের পরিবর্তে অপহরণ ও গণধর্ষণের ধারা আরোপ করা হয়েছে দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
এদিকে নিহতের ভাই পুরো ঘটনা খুলে বলেন। ভিডিওতে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে ঘটনার সাথে জড়িতদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও ছিলেন, যিনি ইউনিফর্ম পরে উপস্থিত ছিলেন। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশ বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতি ও সন্দেহজনক ভূমিকার কথা প্রকাশ পাওয়ার পর সাচেন্দি থানার ইনচার্জ বিক্রম সিংকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত ইন্সপেক্টর অমিত মৌর্যকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। পরিদর্শককে গ্রেফতার করতে পুলিশ চারটি বিশেষ টিম গঠন করেছে, যারা সম্ভাব্য স্থানে ক্রমাগত অভিযান চালাচ্ছে। পুলিশ সূত্র বলছে, অভিযুক্ত ইন্সপেক্টরের মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্রেস করা হচ্ছে এবং তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।
অভিযুক্ত সাংবাদিক গ্রেফতার
এই মামলার আরেক অভিযুক্ত কথিত সাংবাদিক শিববরণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তার বক্তব্যের ভিত্তিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, তদন্তে কোনও অপরাধীই রেহাই পাবে না, সে যে পদেই থাকুক না কেন। পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে শিগগিরই গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হবে। ডিসিপি পশ্চিম দীনেশ ত্রিপাঠি জানিয়েছেন, নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে গণধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত হচ্ছে।
—- শেষ —-
[ad_2]
Source link