এক্সক্লুসিভ: কেমন হবে নতুন বাংলাদেশ? BNP Aaj Tak থেকে রোডম্যাপ শেয়ার করেছে… ভারতের সাথে সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেছে – Bangladesh bnp তারেক রহমান সরকারের রোডম্যাপ ভারতের সাথে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেছে ntc agkp

[ad_1]

বাংলাদেশে বাম্পার জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের তৎপরতা জোরদার হয়েছে। চার দিনের মধ্যে তারিক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বলে খবর রয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান 17 ফেব্রুয়ারি হতে পারে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছে ভারত। তারিক রেহমানের দুই উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন হায়দার ও হুমায়ুন কবির এবং বিএনপির সিনিয়র নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কথা বলেছেন আজতক। নতুন বাংলাদেশ কেমন হবে এবং আগামী দিনে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হতে চলেছে তা জানান উপদেষ্টারা।

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক আজ তকের উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন হায়দারের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিএনপি সভাপতি তারিক রেহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাকে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই সংলাপ বাংলাদেশ এটাকে ভারত ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই কথোপকথনে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার একটি ভালো সুযোগ। তিনি বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক বার্তা পাঠানোও সম্পর্কের ইতিবাচক উন্নয়নের লক্ষণ।

জিয়াউদ্দিন হায়দার নতুন বাংলাদেশ সরকারের নীতিকে 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' এর মূল এজেন্ডা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি মনে করেন, সরকারের অগ্রাধিকার হবে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ রাখা। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের নীতিমালা তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি।

এছাড়াও পড়ুন: 'আমরা সম্পর্ক উন্নয়নে প্রস্তুত, কিন্তু…', ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়ে তারিক রহমানের উপদেষ্টা বলেছেন

ভারত ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে উন্নত ও সম্মানজনক সম্পর্ক স্থাপন করা হবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আঞ্চলিক সংযোগ ও সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে জিয়াউদ্দিন বলেন, সার্ককে পুনরায় সক্রিয় করা আঞ্চলিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হতে পারে। আমরা অনেক দেশের সাথে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোচনা করব, আমরা সংযোগে বিশ্বাসী। সার্ককে পুনরায় সক্রিয় করা সামনে বড় আশা হবে।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিতে পারেন

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, দলের সভাপতি ড তারিক রহমান আগামী চার দিনের মধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ জানান, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণের তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে দলের একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন যে অনুষ্ঠানটি 17 ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে পারে।

সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রথমে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন, তারপর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। শনিবার সকালে নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি তিন দিন সময় ধরা হবে।

যাইহোক, বর্তমান পরিস্থিতি যা জটিল করে তুলেছে তা হল, আগের সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং অজ্ঞাত স্থানে রয়েছেন, আর ডেপুটি স্পিকার কারাগারে রয়েছেন। এসব কারণে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠের দায়িত্ব অন্য কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে অর্পণ করতে পারেন।

আসুন, এখন জেনে নেওয়া যাক আজতকের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল।

কথোপকথনে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) ও উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তারিক রহমানের নেতৃত্বে আস্থা প্রকাশ করলেও ভারতকে বুঝতে হবে বাংলাদেশ এখন আগের মতো নেই। শেখ হাসিনা আর আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতায় না থাকায় দুই দেশের সম্পর্কের 'রিসেট' জরুরি।

কবির বলেন, ভারত যদি এই পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ মেনে নেয়, তাহলে বিএনপি সরকারও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রস্তুত। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ভারতের মাটি থেকে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী কোনো কর্মকাণ্ড যেন না হয়। এ ধরনের কোনো কার্যক্রম বন্ধ না হলে চিন্তার বিষয় হবে।

এছাড়াও পড়ুন: বাংলাদেশের নির্বাচনে বিজয়ের পর তারেক রহমানের প্রথম বক্তব্য, বলেছেন- জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান জানাব

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি বিচার বিভাগের এখতিয়ারের মধ্যে রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার ব্যবস্থা নেবে। তিনি স্বীকার করেছেন যে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি বিদ্যমান, তবে আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারিক রেহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দুই দেশের মধ্যে একটি ইতিবাচক লক্ষণ। কবির বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা উভয়ের স্বার্থে এবং বাস্তবসম্মত সমাধান সম্ভব।

আসুন, এখন আমরা তা জানি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ তকের সাথে আপনার কথোপকথন কি ছিল?

শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজতক-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই ইস্যুটি ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। ফখরুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত যেকোনো পদক্ষেপ আইনি ও আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হবে।

এছাড়াও পড়ুন: ‘হাসিনার প্রত্যর্পণের ইস্যু ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের কোনো প্রভাব ফেলবে না’: বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম

ভারত কখনো শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করতে অস্বীকার করেনি বলেও জোর দেন ফখরুল। তাই এ বিষয়টিকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

—- শেষ —-

[ad_2]

Source link