সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে যান কেন হরিশ রানাকে বিদায়ের আগে এই কথাগুলো বলা হলো?

[ad_1]

বাড়ি থেকে AIIMS-এ পাঠানোর আগে হরিশ রানা যে কথাগুলি বলেছিলেন তা মানুষকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল। 'সবাইকে ক্ষমা করছি, সবার কাছে ক্ষমা চাইছি, এখন যাও, ঠিক আছে…' ব্রহ্মা কুমারীর সঙ্গে যুক্ত সিস্টার লাভলী এসবের অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, মানুষকে মানসিকভাবে শান্ত ও স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য শেষ মুহূর্তে 'ক্ষমা'র বার্তা দেওয়া হয়। তার মতে, এই প্রক্রিয়াটি মনের বোঝা কমিয়ে দেয় এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং শান্তিপূর্ণ প্রস্থানের দিকে পরিচালিত করে।

সিস্টার লাভলী কে এবং কেন তিনি এসব বললেন?

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সিস্টার লাভলি গত ৩০ বছর ধরে ব্রহ্মা কুমারী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাজিয়াবাদের মোহননগর ও রাজনগর এক্সটেনশন এলাকায় আধ্যাত্মিক সেবা করছেন। যখন তার সাথে এই ভিডিওটির অর্থ এবং এর শব্দগুলি সম্পর্কে কথা বলা হয়েছিল, তখন তিনি এটিকে একটি গভীর আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা হিসাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। তিনি বলেছেন যে যখন একটি আত্মা শরীর ত্যাগ করে, সেই মুহূর্তটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সেই সময় ব্যক্তিটি কথা বলতে সক্ষম নাও হতে পারে, তবে তার চেতনা একটি বিশেষ অবস্থায় থাকে। এমন পরিস্থিতিতে আশেপাশের পরিবেশ, কথা ও আবেগ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যা বলি তা শুধু শব্দ নয়, শক্তি। শেষ মুহূর্তে আত্মার শান্তি, প্রশান্তি ও মুক্তির বার্তা দেওয়া জরুরি।

কেন ক্ষমার অনুভূতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

সিস্টার লাভলী বলেন, জীবনে আমরা জেনে-বুঝে অনেক সম্পর্ক করি, মাঝে মাঝে অভিযোগও থেকে যায় মনে। শেষ মুহূর্তে 'সবাইকে ক্ষমা করা' এবং 'সবার কাছে ক্ষমা চাওয়া' একভাবে আত্মাকে হালকা করে। এটি একটি আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া, যেখানে একজন ব্যক্তি তার সমস্ত বোঝা ছেড়ে শান্তির দিকে এগিয়ে যায়। তাঁর মতে, এই ঐতিহ্যটি শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভারতীয় আধ্যাত্মিক চিন্তাধারার গভীরে প্রোথিত যেখানে বিদায়কে একটি শান্তিপূর্ণ এবং পবিত্র যাত্রা হিসাবেও বিবেচনা করা হয়।

হরিশ রানা এবং পরিবারের আধ্যাত্মিক সংযোগ

বোন লাভলীর মতে, হরিশ রানার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আধ্যাত্মিক প্রকৃতির। তিনি জানান, হরিশের বাবা অশোক রানা ও তার পরিবার প্রায় ১৮ বছর ধরে ব্রহ্মা কুমারীর সঙ্গে যুক্ত। গত পাঁচ বছর ধরে রাজনগর এক্সটেনশনের রাজ সাম্রাজ্য সোসাইটিতে পরিবারটি বসবাস করতে এসেও এই বন্ধন অটুট ছিল। এই বন্ধনই পরিবারটিকে গত 13 বছরের কঠিন যাত্রার মধ্য দিয়ে এগিয়ে রেখেছিল।

13 বছর … শুধু যত্ন এবং অপেক্ষা

হরিশ রানার জীবন গত 13 বছর ধরে এমন একটি পরিস্থিতিতে ছিল, যেখানে সময় এগিয়ে যেতে থাকে, কিন্তু তার অবস্থা একই থাকে। সমাজের লোকজন জানায়, হরিশের বাবা অশোক রানা ও তার পুরো পরিবার দিনরাত তার সেবায় নিয়োজিত ছিল। তার দৈনন্দিন রুটিনের একটি বড় অংশ হরিশের যত্ন নেওয়ার জন্য ব্যয় করা হয়েছিল – ওষুধ, পুষ্টি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ছোট-বড় প্রতিটি প্রয়োজনের যত্ন নেওয়া। এটি কেবল শারীরিক যত্নই নয়, একটি দীর্ঘ মানসিক সংগ্রামও ছিল, যা পরিবারটি কোনও অভিযোগ ছাড়াই বেঁচে ছিল।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্বস্তি

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যখন ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেয়, তখন এটি পরিবারের জন্য একটি খুব কঠিন মোড় ছিল। একদিকে স্বস্তি ছিল যে এখন দীর্ঘ যন্ত্রণা থেকে মুক্তির পথ খোলা, অন্যদিকে নিজের ছেলেকে বিদায় জানানোর বেদনাও ছিল সমান গভীর। হরিশ রানাকে এখন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS) দিল্লিতে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে ডাক্তারদের একটি বিশেষ দল তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। ইথানেশিয়ার অধীনে লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম ধীরে ধীরে সরিয়ে দেওয়া হবে, যাতে তারা কোনো ধরনের ব্যথা অনুভব না করে। ডাক্তারদের মতে, এটি একটি ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া, যাতে রোগীর মর্যাদা এবং স্বাচ্ছন্দ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

—- শেষ —-

[ad_2]

Source link