[ad_1]
বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে আরেকটি উত্তেজনা বৃদ্ধির খবর এসেছে। এই খবরটি বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষেত্রেও একটি বড় সতর্কবার্তা। আসলে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
আইএমএফ-এর 'ফিসকাল মনিটর' রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বে ঋণের বোঝা এতটাই বাড়ছে যে ২০২৯ সাল নাগাদ তা বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) শতভাগে পৌঁছতে পারে। এটি এমন একটি পরিস্থিতি যা স্বাভাবিক সময়ে দেখা যায় না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সংকট পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০২৯ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী সরকারি ঋণ মোট বিশ্ব জিডিপির ১০০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। উদ্বেগের বিষয় হলো, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ ধরনের তথ্য সর্বশেষ দেখা গেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো পরিস্থিতির শব্দ
আইএমএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ঋণ ২০২৫ সালের মধ্যে জিডিপির প্রায় ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে এবং আগামী বছরগুলোতে তা ক্রমাগত বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর সহজ অর্থ হল বিশ্ব এক বছরে যে পরিমাণ আয় করে, একই পরিমাণ অর্থ ঋণের আকারে বকেয়া হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শেষবার বিশ্ব ঋণের এই পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সে সময় যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং যুদ্ধের পর অবকাঠামোতে বিপুল ব্যয় দেশগুলোকে ঋণের জালে ঠেলে দিয়েছিল। প্রায় 80 বছর পর, পৃথিবী আবার একই বাঁক পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে। একদিক দিয়ে সে সময়ের চেয়ে এখন পরিস্থিতি আরও গুরুতর। কারণ সে সময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল শুধুমাত্র যুদ্ধের কারণে, অথচ বর্তমান সময়ে শুধু যুদ্ধই নয়, ক্রমাগত বাড়ছে রাজস্ব ঘাটতি, উচ্চ সুদের হার এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা।
আইএমএফের এই প্রতিবেদনে ঋণ বৃদ্ধির অনেক বড় কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।
1. বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা একটি প্রধান কারণ
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে, যার কারণে সরকারের ব্যয় বেড়েছে। অনেক দেশেই অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে যাতে জনসাধারণের বোঝা না হয়, এর জন্য সরকারকে ঋণ নিতে হচ্ছে।
2. ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির বিপদ
এর বাইরে মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধিও একটি বড় কারণ। যখন সুদের হার বেশি হয়, সরকারগুলির জন্য পুরানো ঋণ পরিশোধ করা এবং নতুন ঋণ নেওয়া উভয়ই ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এ কারণে মোট ঋণের বোঝা দ্রুত বাড়ছে। গত কয়েক বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়িয়েছে। এ কারণে পুরনো ঋণ পরিশোধ করা এবং নতুন ঋণ নেওয়া উভয়ই সরকারের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক জিডিপিতে সুদের পরিশোধের অংশ 2% থেকে বেড়ে 3% হয়েছে।
3. আয় আট টাকা, খরচ রুপি
আইএমএফ আরও বলেছে যে অনেক দেশ ক্রমাগত রাজস্ব ঘাটতিতে চলছে, অর্থাৎ তাদের আয় কম এবং ব্যয় বেশি। এই ঘাটতি পূরণে সরকার ঋণ নিচ্ছে, যার কারণে ক্রমাগত বাড়ছে ঋণের মাত্রা।
শুধু তাই নয়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলো। বিশেষ করে যেসব দেশের অর্থনীতি এমনিতেই দুর্বল বা তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এ ধরনের দেশে ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা সীমিত, যার কারণে অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আইএমএফ দেশগুলোকে তাদের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, শুধুমাত্র অভাবী মানুষকে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং দীর্ঘমেয়াদে ঋণ কমানোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিয়েছে।
ভারতের জন্য সংকেত কি?
বিশ্বজুড়ে খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে, আইএমএফ ভারতকে একটি 'উজ্জ্বল স্থান' বলে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত তার প্রাথমিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে আর্থিক অবস্থার উন্নতি করেছে। ভারতের শক্তিশালী জিডিপি বৃদ্ধির কারণে, তার ঋণের অনুপাত আগামী সময়ে স্থিতিশীল বা হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে ভারতের ঋণ-জিডিপি অনুপাত 84% এর কাছাকাছি। যেখানে আমেরিকার ঋণ 2031 সালের মধ্যে তার জিডিপির 142% হবে বলে অনুমান করা হয়েছে, চীনের ঋণ 127% হতে পারে।
—- শেষ —-
[ad_2]
Source link