[ad_1]
ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং কয়েক দশকের পুরনো 'Antonov An-32' পরিবহন বিমান শনিবার আসামের জোড়হাট বিমানঘাঁটিতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানটি রুটিন ফ্লাইট শেষ করে রানওয়েতে অবতরণ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, বিমানটি মাটিতে নামার সঙ্গে সঙ্গেই আচমকা ব্যাপক আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিমান ঘাঁটির রানওয়েতেই এটি ভেঙে দুই টুকরো হয়ে যায়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিমান বাহিনীর পাঁচজন সাহসী সামরিক কর্মী সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন এবং বিমানের কো-পাইলট গুরুতর আহত হয়ে সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ ক্রম
আমরা যদি সকাল থেকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ঘটনার ধারাবাহিকতা দেখি, একটি নিয়মিত সামরিক মহড়া হিসাবে শুরু হওয়া পুরো ঘটনাটি কয়েক ঘন্টার মধ্যে একটি বড় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছিল …
এছাড়াও পড়ুন: বিমান বাহিনীর AN-32 বিমান আকাশের আলেকজান্ডার, জেনে নিন সে সম্পর্কে
09:30 am (ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত): জোড়হাট রাশিয়ান বংশোদ্ভূত এই টুইন-ইঞ্জিন টার্বোপ্রপ An-32 বিমানটি সামরিক বিমানবন্দরে নিয়মিত উড্ডয়নের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। ক্রু সদস্যরা সমস্ত প্রাক-ফ্লাইট প্রযুক্তিগত পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।
10:00 am (ঘটনা এবং দুর্ঘটনা): বিমানটি তার নির্ধারিত ফ্লাইট শেষ করেছে। জোরহাট বিমানঘাঁটির রানওয়েতে নামার চেষ্টা করছিলেন তিনি। বিমানটি মাটিতে স্পর্শ করার সাথে সাথেই হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি বা স্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি হয়, যার ফলে ব্যাপক আগুন লেগে যায়। আগুনের ধাক্কা এবং গতি এতটাই দ্রুত ছিল যে প্লেনটি রানওয়েতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে দুটি বড় টুকরো হয়ে যায়।
10:15 am (ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান): বিমান ঘাঁটিতে উপস্থিত ফায়ার টেন্ডার এবং জরুরি মেডিকেল টিম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। বিমানের জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ থেকে ক্রু সদস্যদের বের করে আনার কাজ দ্রুতই শুরু করা হয়। পাঁচজন কর্মীকে মৃত ঘোষণা করা হয়, বেঁচে থাকা সহ-পাইলটকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিকেল (বায়ু বাহিনীর অফিসিয়াল বিবৃতি): ভারতীয় বিমান বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী পাঁচ বীরের নামের তালিকা প্রকাশ করে শোক প্রকাশ করেছে।
দেশের পাঁচ বীর শহীদের তালিকা
ভারতীয় বিমান বাহিনী এই দুর্ঘটনার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সেই সাহসী অফিসার এবং সৈন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে যারা দায়িত্ব পালনে প্রাণ হারিয়েছেন। শহীদ কর্মীদের মধ্যে তরুণ অফিসার এবং অগ্নিবীরবায়ু সৈন্য রয়েছে…

বিমান বাহিনী তার শোক বার্তায় বলেছে যে ভারতীয় বিমান বাহিনী জোড়হাটে ঘটে যাওয়া এই An-32 দুর্ঘটনায় তার পাঁচজন কর্মীদের অকালমৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে। বিমান বাহিনী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়। এই দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি।
'কোর্ট অফ ইনকোয়ারি' আদেশ: প্রযুক্তিগত দিকগুলি যাচাইয়ের অধীনে
দুর্ঘটনার পরপরই, ভারতীয় বিমান বাহিনীর শীর্ষ সদর দফতর দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজে বের করার জন্য একটি 'কোর্ট অফ ইনকোয়ারি'-এর জন্য উচ্চ পর্যায়ের আদেশ জারি করেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল অবতরণের ঠিক সেই মুহূর্তে কী ঘটেছিল যে বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং দুটি ভাগ হয়ে যায়।
এছাড়াও পড়ুন: লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ ভারতীয় সেনাবাহিনীর নতুন প্রধান হবেন, যা সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে একটি বড় অবদান।
আসামের জোড়হাটে An-32 দুর্ঘটনায় পাঁচজন এয়ার ওয়ারিয়র মারা যাওয়ায় গভীরভাবে মর্মাহত।
Sqn Ldr প্রশান্ত সিং, Flt লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার, Sgt জিতেন্দ্র শর্মা, অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমাওয়াত এবং অগ্নিবীরবায়ু দানিশ আলম দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। তাদের সাহস… https://t.co/eChXozjT85
— রাজনাথ সিং (@রাজনাথসিংহ) 13 জুন, 2026
ল্যান্ডিং গিয়ারের ব্যর্থতা, বিমানের টায়ার ফেটে যাওয়া, রানওয়েতে কোনো বিদেশি বস্তুর সঙ্গে সংঘর্ষ বা ইঞ্জিনে হঠাৎ কোনো বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার মতো অনেক দিক নিয়ে কাজ করছে তদন্ত দল। জীবিত সহ-পাইলটের বক্তব্য এই তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক হিসাবে প্রমাণিত হবে, যা অবতরণের শেষ সেকেন্ডে ককপিটের ভিতরে কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল এবং বিমানটি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তা স্পষ্ট করতে সক্ষম হবে।

An-32 বিমান এবং উত্তর-পূর্বের চ্যালেঞ্জিং রানওয়ে
Antonov An-32 বিমানগুলিকে ভারতীয় বায়ুসেনার 'মেরুদন্ড' বলা হয়, যা মূলত পাহাড় ও দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীর কাছে রেশন, অস্ত্র ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে। যদিও, আসাম এবং অরুণাচল প্রদেশের মতো উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির ভূগোল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।
প্রায়শই এই অঞ্চলগুলিতে, আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তন, প্রবল বাতাস এবং রানওয়েতে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া সাধারণ। তবে সকাল ১০টার দিকে সরাসরি বিমানঘাঁটির রানওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে, তাই কারিগরি ত্রুটির আশঙ্কাই বেশি করা হচ্ছে।
এই পুরানো সোভিয়েত-অরিজিন নৌবহরকে প্রতিস্থাপন করতে, ভারত সরকার এখন নতুন ইউরোপীয় এয়ারবাস C-295 বিমানকে বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করছে, যাতে ভবিষ্যতে আমাদের সাহসী সৈন্যদের এই ধরনের দুর্ঘটনা থেকে নিরাপদ রাখা যায়।
—- শেষ —-
[ad_2]
Source link