[ad_1]
রাজস্থানের আজমির জেলার বোরাদা থানা এলাকা থেকে একটি ভয়ঙ্কর খুনের ঘটনা সামনে এসেছে যা পুরো এলাকাকে হতবাক করে দিয়েছে। এখানে এক নারী তার নিজের স্বামী, শাশুড়ি, শ্বাশুড়ি এবং অন্য এক আত্মীয়কে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। ঘটনার পর সে এমন জঘন্য খেলা খেলেছে যে প্রথমে কেউ তাকে সন্দেহও করেনি। বাড়িতে উপস্থিত মহিলাদের মধ্যে বসে তিনি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ভান করে কান্নাকাটি করতে থাকেন।
প্রকৃতপক্ষে, ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীরামপুরা গ্রামে, যেখানে প্রধান সড়কে একটি পোড়া গাড়িতে চারটি মৃতদেহ পাওয়া গেলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। যত তাড়াতাড়ি তথ্য পাওয়া যায় আজমীর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। নিহতরা হলেন রামসিংহ চৌধুরী, তার মা পুষি দেবী, দ্বিতীয় স্ত্রী সুরজ্ঞান এবং খালার মেয়ে মহিমা। প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে একটি দুর্ঘটনার প্রয়াস বলে মনে হচ্ছে, কারণ চারটি লাশই গাড়ির ভেতরে পুড়ে গেছে।
এছাড়াও পড়ুন: আজমির: স্বামী, শাশুড়ি ও পুত্রবধূ সহ এক আত্মীয়কে দুই সন্তানসহ খুন, গাড়িতে মৃতদেহ পুড়িয়ে দিল মহিলা।
আজমেরের এসপি হর্ষ বর্ধনের মতে, খুনের পর অভিযুক্তরা মৃতদেহগুলিকে গাড়িতে রেখে আগুন ধরিয়ে দেয় যাতে পুরো বিষয়টিকে দুর্ঘটনার রূপ দেওয়া যায়। কিন্তু ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামত এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অভিযুক্ত স্ত্রী কান্নার ভান করতে থাকেন
এখানে, বাড়ির ভিতরে, অন্যরকম দৃশ্য ছিল। রাম সিংয়ের প্রথম স্ত্রী সুনীতা ঘরে বসে উচ্চস্বরে শোক করছিল। আশেপাশের নারীদের মধ্যে নিজেকে শিকার হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি। সে বারবার অজ্ঞান হওয়ার ভান করে এবং জোরে জোরে কান্নাকাটি করে নিজেকে সন্দেহ থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিল।
কিন্তু পুলিশি তদন্ত যতই এগিয়েছে, ততই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের স্তর উন্মোচন হতে শুরু করেছে। তদন্তে জানা গেছে, রাম সিং ও তার প্রথম স্ত্রী সুনীতার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। বুধবার গভীর রাতেও উভয়ের মধ্যে তুমুল কথা কাটাকাটি হয়।
ভিডিওটি দেখুন…
পুলিশ জানায়, বিবাদ এতটাই বেড়ে যায় যে সুনিতা, তার মেয়ে সরিতা এবং নাবালক ছেলেকে নিয়ে চারজনকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে। হামলায় স্বামী, শাশুড়ি, সৎ মেয়ে ও আত্মীয় মহিমা মারা যান। ঘটনার পর আসামিরা আলামত নষ্ট করার পরিকল্পনা করে।
লাশ রাখার পর গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়
হত্যার পর চারটি লাশ বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযুক্তরা মৃতদেহগুলি রাম সিংয়ের গাড়িতে রাখে এবং তারপরে গাড়িতে আগুন দেয়, যাতে পুরো ঘটনাটি দুর্ঘটনার মতো দেখায় এবং পুলিশকে বিভ্রান্ত করা হয়।
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে এফএসএল ও এমওবি দলকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। বৈজ্ঞানিক প্রমাণের পাশাপাশি গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদও করেছে পুলিশ। গ্রামবাসীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ছোট তথ্য এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণ পুরো ঘটনার সাথে যুক্ত।
তৎপরতা দেখিয়ে মূল অভিযুক্ত সুনিতা, তার মেয়ে সরিতা ও নাবালক ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার ও পুরো ঘটনায় আসামিদের কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এই হত্যা মামলা এবং অভিযুক্ত মহিলার কথিত 'দ্বৈত ভূমিকা' পুরো এলাকাকে হতবাক করেছে।
—- শেষ —-
[ad_2]
Source link