[ad_1]
উত্তরপ্রদেশের বাদাউনের সিভিল লাইন কোতোয়ালি এলাকায় অবস্থিত ডাঃ বিনোদ কুমার নতুন জীবনদান হাসপাতালে বৃহস্পতিবার ভোরে একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। চিকিৎসার জন্য ভর্তি রোগীরা যখন গভীর ঘুমে মগ্ন, তখন এক চতুর চোর নির্ভয়ে ওয়ার্ডে পৌঁছে কিছুক্ষণের মধ্যে তিনটি মোবাইল ফোন চুরি করে পালিয়ে যায়।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় ছিল, আসামিরা সম্পূর্ণ পরিকল্পনা করে অপরাধটি করেছে। তাকে তোয়ালে দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা হয়েছিল যাতে তাকে শনাক্ত করা না যায়। কিন্তু হাসপাতালে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে তার চতুরতা কাজ করেনি এবং তার পুরো অ্যাকশন ক্যামেরায় রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়াও পড়ুন: মৃতদেহকে রেহাই দিত! বদাউন জেলা হাসপাতালে ঝাড়ুদার মৃতদেহের কান থেকে কানের দুল টেনে নিল, সিসিটিভি প্রকাশ করল রহস্য!
গত ১৫ জুলাই ভোর ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। হাসপাতালে ঢোকার পর অভিযুক্তরা সোজা ওই ওয়ার্ডে চলে যায় যেখানে চিকিৎসার সময় অনেক রোগী ঘুমিয়ে ছিলেন। একে একে রোগীদের কাছে রাখা তিনটি মোবাইল তুলে নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো না করে বেরিয়ে যেতে লাগলেন।
রোগীরা ঘুমিয়ে থাকল, চোর অনায়াসে মোবাইল কুড়িয়ে নিল
ওয়ার্ডে উপস্থিত রোগীরাও তখন চুরির বিষয়টি টের পাননি। সবাই যে ঘুমিয়ে আছে তার পুরো সুযোগ নেয় অভিযুক্তরা। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনটি মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে হাঁটা শুরু করেন তিনি।
রোগীরা জেগে উঠলে দেখা যায় তাদের মোবাইল ফোন নেই। এরপর হাসপাতালের কর্মচারী ও রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজনও অভিযুক্তকে ধাওয়া করার চেষ্টা করলেও সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ধাওয়া করলে কয়েকটি মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাসপাতাল চত্বরে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ স্ক্যান করতে শুরু করে। ফুটেজে অভিযুক্তের পুরো কার্যকলাপ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
ভিডিওটি দেখুন…
সিসিটিভি ফুটেজের সাহায্যে অভিযুক্তদের খোঁজ
পুলিশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সিসিটিভি ফুটেজ তাদের দখলে নিয়েছে। ফুটেজ ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তাকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
সিও সিটি রাহুল পান্ডে জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। ফুটেজের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক দল তাকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। শিগগিরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পুলিশ আশেপাশের এলাকায় স্থাপিত অন্যান্য সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডিংও পরীক্ষা করছে যাতে আসামিদের আগমন এবং পালানোর পথ নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া তার পুরনো অপরাধের রেকর্ডও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রশ্ন উঠেছে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে
এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সর্বোপরি, কীভাবে একজন বহিরাগত ব্যক্তি কোনও বাধা ছাড়াই ভোরে হাসপাতালের ওয়ার্ডে পৌঁছলেন? একজন চোর যদি এত সহজে রোগীদের কাছে পৌঁছাতে পারে, তাহলে রোগী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা কতটা মজবুত তা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন নিজেদের নিরাপদ মনে করলেও এই ঘটনা তাদের নিরাপত্তাবোধকে নাড়িয়ে দিয়েছে। রোগীরা বলছেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সেজন্য হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও মনিটরিং আরও জোরদার করা দরকার।
বর্তমানে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। সিসিটিভি ফুটেজকে সবচেয়ে বড় ক্লু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং আশা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে।
—- শেষ —-
[ad_2]
Source link